মাতৃত্বকালীন বিরতির পর নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন বলিউড অভিনেত্রী Kiara Advani। তার বহুল আলোচিত নতুন চলচ্চিত্র Toxic: A Fairy Tale for Grown-Ups মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে দর্শকরা। ছবিটি ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো, Yash-এর দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন এবং প্রথমবারের মতো যশ ও কিয়ারার জুটি।

ঘোষণার পর থেকেই চলচ্চিত্রটি নিয়ে ভারতজুড়ে আলোচনা চলছে। অ্যাকশন, আবেগ ও নাটকীয়তার সমন্বয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা Geetu Mohandas। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত এই নির্মাতার সঙ্গে যশের কাজ শুরু থেকেই দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘টক্সিক’-এ কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিয়ারা আদভানি। তিনি জানান, এই চলচ্চিত্রে কাজ করা তার জন্য ছিল একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে পরিচালক গীতু মোহনদাসের কাজের ধরন তাকে নতুনভাবে অভিনয় ভাবতে শিখিয়েছে।

কিয়ারা বলেন, শুটিং শুরুর আগেই পরিচালক তাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, সেটে পৌঁছানোর পর যেন তিনি সম্পূর্ণভাবে চরিত্রের মধ্যে থাকেন। সাধারণত তিনি শুটিংয়ে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রাণবন্ত পরিবেশে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু এবার পরিচালক চেয়েছিলেন তিনি যেন কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতায় না গিয়ে সরাসরি চরিত্রের আবহে প্রবেশ করেন।

অভিনেত্রী জানান, শুরুতে বিষয়টি তার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। কারণ, নিজের দল বা সহশিল্পীদের সঙ্গে কথা না বলে সরাসরি চরিত্রে ঢুকে যাওয়া তার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি এই পদ্ধতির তাৎপর্য বুঝতে পারেন।

তার ভাষায়, ধীরে ধীরে তিনি বিষয়টি উপভোগ করতে শুরু করেন। এতে চরিত্রের আবেগ, মানসিক অবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে সংযুক্ত থাকা সহজ হয়েছে। ফলে অভিনয়ের গভীরতাও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শুধু অভিনয়ের দিক থেকেই নয়, ভাষাগত কারণেও ‘টক্সিক’ কিয়ারার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। চলচ্চিত্রটির বেশ কয়েকটি দৃশ্যে তাকে কন্নড় ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে। তিনি জানান, একই দৃশ্য প্রথমে ইংরেজিতে এবং পরে কন্নড়ে ধারণ করা হতো।

কন্নড় তার মাতৃভাষা না হওয়ায় প্রতিদিনের শুটিংয়ের আগে তাকে সংলাপ মুখস্থ করতে হতো এবং সঠিক উচ্চারণের পাশাপাশি একই আবেগও ধরে রাখতে হতো।

কিয়ারা বলেন, ভাষার সঙ্গে আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ ছিল না। তবে নতুন কিছু শেখার সুযোগ হিসেবে তিনি পুরো অভিজ্ঞতাকে গ্রহণ করেছেন।

চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহের আরেকটি বড় কারণ যশ। K.G.F: Chapter 2-এর বিপুল সাফল্যের পর তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন। সেই সাফল্যের পর দর্শকরা তার নতুন চলচ্চিত্রের জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছিলেন। ‘টক্সিক’ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে।

বহুভাষিক দর্শককে লক্ষ্য করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে কিয়ারা ও যশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন Nayanthara, Huma Qureshi, Rukmini Vasanth এবং Tara Sutaria। তারকাবহুল এই অভিনয়শিল্পী তালিকা চলচ্চিত্রটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রথমে আগামী ৪ জুন চলচ্চিত্রটি মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও পরে নির্মাতারা মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেন। নতুন মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে এ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহে কোনো ভাটা পড়েনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটির পোস্টার, নির্মাণসংক্রান্ত তথ্য এবং অভিনয়শিল্পীদের মন্তব্য নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘টক্সিক’ শুধু একটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নয়; বরং অভিনয়, নির্মাণশৈলী এবং চরিত্র নির্মাণের দিক থেকেও এটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। আর কিয়ারা আদভানির সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















