সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশের ভাগ্য খুব একটা সুপ্রসন্ন নয়। দেশের একমাত্র অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি বাপেক্সের সাগরে অনুসন্ধানের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। অন্যদিকে বারবার দরপত্র আহ্বান করেও খুব একটা সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আর সাড়া পেলেও অনেক কোম্পানি কাজ না করে ব্লক ফেলে রেখে চলে গেছে।
২০২৬ সালে সবশেষ এই বিডিং রাউন্ডের আগে আরও ৫ বার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এরমধ্যে শুরুর দিকে স্থলভাগেও দরপত্র আহ্বান করা হতো। স্থলভাগে বাপেক্সকে এককভাবে কাজ দিতে শেষের দিকে টেন্ডার বাদ দেওয়া হয়। তবে টেন্ডারের মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানিগুলো সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করে থাকে।
বাংলাদেশ প্রথম বড় ধরনের তেল গ্যাস অনুসন্ধান দরপত্র আহ্বান করে ১৯৯৩ সালে। সে সময় বিদেশি কোম্পানির মধ্যে শেল অয়েল এবং কেয়ার্ন এনার্জি আগ্রহ দেখায়। এরপর ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয় বড় অফশোর দরপত্র অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েকটি আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানি অংশ নেয় এবং পরে কিছু ব্লকে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম ধাপে ১৯৯৩ সালে বিডিং রাউন্ড হলেও তখন বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে দরপত্রের বাইরে দর কষাকষির মাধ্যমে কাজ দেওয়া হয়।
এরপর ২০০৮ সালে গভীর সমুদ্রের নতুন ব্লক উন্মুক্ত করে আবারও আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই রাউন্ডে কনোকো ফিলিপস বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র ব্লকে অনুসন্ধান চুক্তি পায়। এটি ছিল বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের সময় কনোকো ফিলিপস দরপত্রের বাইরে গিয়ে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম এক ডলার করে বৃদ্ধির সুপারিশ করে। তখন পেট্রোবাংলা থেকে এর বিরোধিতা করায় বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যায় কোম্পানিটি।
পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে আবারও দরপত্র ডাকা হয়। এ রাউন্ডে ভারতের ওনজিসি ভিদেশ এবং অয়েল ইন্ডিয়া যৌথভাবে অংশ নেয়। তারা অগভীর সমুদ্রে ৪ এবং ৯ নম্বর ব্লকের দায়িত্ব পায় এবং বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। যদিও এখন তারা কোনও কাজ করছে না।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে সরকার ২৪টি অফশোর ব্লকের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। এতে প্রায় ৫৫টি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ওই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অনির্বাচিত সরকারের অধীনে কেউ বড় বিনিয়োগে আগ্রহী হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 

























