ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিয়ে, এরপর দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছিন্নতা এবং শেষ পর্যন্ত রহস্যজনক মৃত্যু; এমন ঘটনাকে ঘিরে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অচেতন অবস্থায় বাড়ি ফেরেন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রইসুল ইসলাম নিবির। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নিবিড় মিয়া স্থানীয় প্রাণ-আরএফএল পাবলিক স্কুলের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ইসলামপাড়া গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তারের (১৪) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হয় নিবিরের। বিয়ের পর কিছুদিন সংসার ভালোভাবে চললেও বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার ভ্রমণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। একপর্যায়ে ফাহমিদা বাবার বাড়ি চলে যায়। এরপর প্রায় দেড় মাস ধরে তারা আলাদা অবস্থান করছিলেন।
পরিবারের দাবি, ফাহমিদাকে ফিরিয়ে আনার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও সফল হননি তারা। মঙ্গলবার রাতে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে নিবির নিজেই শ্বশুরবাড়িতে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে জহিরুল ইসলাম নামে এক মিশুক চালক তাকে অচেতন অবস্থায় নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন। স্বজনরা প্রথমে তাকে নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা মাসুদ মিয়া জানান, কক্সবাজারে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপর ফাহমিদা বাবার বাড়ি চলে যায়। আমরা অনেকবার তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে আসেনি। পরে আমার ছেলে সেখানে গিয়ে অসুস্থ অবস্থায় ফিরে আসে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। নিহতের বোন রাত্রী আক্তার অভিযোগ করেন, রাতে যখন ভাইকে বাড়িতে আনা হয় তখন তার কোনো জ্ঞান ছিল না। আমরা পানি দিলেও সাড়া দেয়নি। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পরও তাকে বাঁচানো যায়নি। আমরা এই মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। নিবিরের বন্ধু জিদান দাবি করেন, বিয়ের পর পারিবারিক কলহের পাশাপাশি ফাহমিদার অন্য এক যুবকের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ফাহমিদা বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 




















