ঢাকা ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: একসঙ্গে ৪ ভাইয়ের জানাজা পড়ালেন জীবিত ভাই

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ মে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের, কিন্তু তার বদলে একই দিনে একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টায় হোছনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাদের বেঁচে থাকা একমাত্র ছোট ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক ইমামতি করেন। জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজারে করে মরদেহগুলো বুধবার ভোরে রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

মারা যাওয়া চার ভাই হলেন- শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তাদের বাবা মৃত জামাল উদ্দিন। রাশেদুল ও শাহিদুল বিবাহিত ছিলেন, আর সিরাজুল ও শহিদুল ছিলেন অবিবাহিত। তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে লালানগর গ্রামসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ শোকাহত। একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না এবং স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারাক্রান্ত।

জানাজায় ইমামতি করা হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি জানাজার আগে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে উপস্থিত সবার কাছে তার ভাইদের ক্ষমা করে দেওয়ার এবং দোয়া করার আকুতি জানান। এই ঘটনায় নিহতদের মা খাদিজা বেগম এবং দুই ভাই রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহিদুলের স্ত্রী শান্তা আকতারও শোকে কাতর এবং বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। এলাকার মানুষেরাও এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত এবং মৃতদের স্মৃতিচারণায় ব্যস্ত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উদযাপনের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা: গলায় মাংস আটকে কিশোরের মৃত্যু

ওমানে মর্মান্তিক মৃত্যু: একসঙ্গে ৪ ভাইয়ের জানাজা পড়ালেন জীবিত ভাই

আপডেট সময় : ০৭:৫০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ওমানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ মে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাদের, কিন্তু তার বদলে একই দিনে একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২০ মে) বেলা ১১টায় হোছনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তাদের বেঁচে থাকা একমাত্র ছোট ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক ইমামতি করেন। জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজারে করে মরদেহগুলো বুধবার ভোরে রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

মারা যাওয়া চার ভাই হলেন- শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তাদের বাবা মৃত জামাল উদ্দিন। রাশেদুল ও শাহিদুল বিবাহিত ছিলেন, আর সিরাজুল ও শহিদুল ছিলেন অবিবাহিত। তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে লালানগর গ্রামসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ শোকাহত। একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না এবং স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারাক্রান্ত।

জানাজায় ইমামতি করা হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি জানাজার আগে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে উপস্থিত সবার কাছে তার ভাইদের ক্ষমা করে দেওয়ার এবং দোয়া করার আকুতি জানান। এই ঘটনায় নিহতদের মা খাদিজা বেগম এবং দুই ভাই রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহিদুলের স্ত্রী শান্তা আকতারও শোকে কাতর এবং বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। এলাকার মানুষেরাও এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত এবং মৃতদের স্মৃতিচারণায় ব্যস্ত।