ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

সামরিক সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরানের অর্থনীতি: মূল্যস্ফীতিকে দেখছে ‘যুদ্ধকালীন হুমকি’ হিসেবে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর এক চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির সরকার এখন এক ‘যুদ্ধকালীন যুক্তি’ মেনে অর্থনীতি পরিচালনার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতিকে দেখা হচ্ছে একটি ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে এবং বাজারকে বিবেচনা করা হচ্ছে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাল, ভোজ্যতেল এবং চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি এখন তিন অঙ্কের ঘরে (শতভাগের ওপরে) পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ অবৈধ মজুতদারি, অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহে হাজার হাজার আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এবং লাখ লাখ রিয়াল জরিমানা আদায় করেছে দেশটির পুলিশ, বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

বাইরে থেকে আসা ধারাবাহিক চাপই ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার মূল কারণ। মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ধসিয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাষ্ট্র এখন কেবল দাম নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে না, বরং জোরপূর্বক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চালের দাম বার্ষিক ভিত্তিতে বেড়েছে ১৭০ শতাংশেরও বেশি, ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ এবং চিনির দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

কর্তৃপক্ষ এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিকে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক অবরোধের কারণে বাণিজ্য রুট ও বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এখন মূল্যস্ফীতি কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রের পরাজয় বা ফলাফল’। এই ব্যাখ্যার কারণে দেশটির বিচার বিভাগ হুশিয়ারি দিয়েছে যে, বাজারে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

বিভিন্ন প্রদেশে চাল ও ভোজ্যতেলের বড় বড় অবৈধ মজুত জব্দ করার পাশাপাশি শিল্প ও পেট্রোকেমিক্যাল সামগ্রীও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সরকারের দাবি, এই মজুতদারির কারণেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং দাম বাড়ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করে চেকে সই নেওয়ার অভিযোগ: গ্রেপ্তার ২

সামরিক সংঘাত ও নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরানের অর্থনীতি: মূল্যস্ফীতিকে দেখছে ‘যুদ্ধকালীন হুমকি’ হিসেবে

আপডেট সময় : ০৯:১০:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের পর এক চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইরান। দেশটির সরকার এখন এক ‘যুদ্ধকালীন যুক্তি’ মেনে অর্থনীতি পরিচালনার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতিকে দেখা হচ্ছে একটি ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে এবং বাজারকে বিবেচনা করা হচ্ছে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চাল, ভোজ্যতেল এবং চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি এখন তিন অঙ্কের ঘরে (শতভাগের ওপরে) পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ অবৈধ মজুতদারি, অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহে হাজার হাজার আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এবং লাখ লাখ রিয়াল জরিমানা আদায় করেছে দেশটির পুলিশ, বিচার বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

বাইরে থেকে আসা ধারাবাহিক চাপই ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার মূল কারণ। মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা দেশটির অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ধসিয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাষ্ট্র এখন কেবল দাম নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে না, বরং জোরপূর্বক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পতন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইরানে চালের দাম বার্ষিক ভিত্তিতে বেড়েছে ১৭০ শতাংশেরও বেশি, ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ এবং চিনির দাম বেড়েছে ৮০ শতাংশ।

কর্তৃপক্ষ এই নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিকে একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সামুদ্রিক অবরোধের কারণে বাণিজ্য রুট ও বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ইরানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এখন মূল্যস্ফীতি কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় নয়, বরং এটি ‘যুদ্ধক্ষেত্রের পরাজয় বা ফলাফল’। এই ব্যাখ্যার কারণে দেশটির বিচার বিভাগ হুশিয়ারি দিয়েছে যে, বাজারে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

বিভিন্ন প্রদেশে চাল ও ভোজ্যতেলের বড় বড় অবৈধ মজুত জব্দ করার পাশাপাশি শিল্প ও পেট্রোকেমিক্যাল সামগ্রীও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সরকারের দাবি, এই মজুতদারির কারণেই বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং দাম বাড়ছে।