ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ভারতে প্রথমবারের মতো ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন জব্দ, সিরীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

ভারতে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের এক চালানে জব্দ করা হয়েছে ‘জিহাদি ড্রাগ’ বা ‘গরিবের কোকেন’ নামে পরিচিত মাদক ‘ক্যাপ্টাগন’। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রেজপিল’-এর আওতায় গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেব সরাই এলাকা থেকে ১৮২ কোটি টাকা মূল্যের এই মাদক জব্দ করা হয়।

অমিত শাহ আরও জানান, জব্দকৃত এই মাদকের চালানটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। এই ঘটনায় একজন সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মোদি সরকার মাদক-মুক্ত ভারত গড়তে বদ্ধপরিকর এবং তাদের সংস্থাগুলো প্রথমবারের মতো তথাকথিত ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

‘জিহাদি ড্রাগ’ বা ক্যাপ্টাগন মূলত একটি অত্যন্ত আসক্তিনির্ভর উত্তেজক মাদক, যা সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে বারবার আলোচনায় এসেছে। সিরীয় গৃহযুদ্ধের সময় সশস্ত্র ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে, ভয় কমাতে এবং সক্রিয় থাকতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতো। এই কারণেই মাদকটি বিশ্বজুড়ে ‘জিহাদি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এছাড়া উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় একে ‘গরিবের কোকেন’ও বলা হয়।

গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চালানটি উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আবহে সেখানে লড়াইরত যোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হতে পারতো।

ক্যাপ্টাগন মূলত ১৯৬০-এর দশকে মনোযোগের অভাব (অ্যাটেনশন ডিসঅর্ডার) ও নার্কোলেপ্সির চিকিৎসার জন্য ‘ফেনিথাইলাইন’ নামে তৈরি করা হয়েছিল। তবে ভয়াবহ আসক্তির কারণে ৮০-এর দশকে অনেক দেশ এটি নিষিদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ একে সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স কনভেনশনে এর ব্যবহার সীমিত করে দেয়।

বর্তমানে কালোবাজারে যে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়, তা আদি রূপের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। ল্যাবরেটরিতে তৈরি এই মাদকে অ্যাম্ফিটামিন, ক্যাফেইন এবং মেথামফেটামিনসহ নানা সিন্থেটিক রাসায়নিকের মিশ্রণ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাদকের সামান্য মাত্রাও অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মানুষের মধ্যে চরম আগ্রাসন, সহিংস আচরণ এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে ব্যবসায়ীকে লাঞ্ছিত করে চেকে সই নেওয়ার অভিযোগ: গ্রেপ্তার ২

ভারতে প্রথমবারের মতো ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন জব্দ, সিরীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০২:২০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ভারতে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের এক চালানে জব্দ করা হয়েছে ‘জিহাদি ড্রাগ’ বা ‘গরিবের কোকেন’ নামে পরিচিত মাদক ‘ক্যাপ্টাগন’। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রেজপিল’-এর আওতায় গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেব সরাই এলাকা থেকে ১৮২ কোটি টাকা মূল্যের এই মাদক জব্দ করা হয়।

অমিত শাহ আরও জানান, জব্দকৃত এই মাদকের চালানটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। এই ঘটনায় একজন সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মোদি সরকার মাদক-মুক্ত ভারত গড়তে বদ্ধপরিকর এবং তাদের সংস্থাগুলো প্রথমবারের মতো তথাকথিত ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।

‘জিহাদি ড্রাগ’ বা ক্যাপ্টাগন মূলত একটি অত্যন্ত আসক্তিনির্ভর উত্তেজক মাদক, যা সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে বারবার আলোচনায় এসেছে। সিরীয় গৃহযুদ্ধের সময় সশস্ত্র ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সদস্যরা দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে, ভয় কমাতে এবং সক্রিয় থাকতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতো। এই কারণেই মাদকটি বিশ্বজুড়ে ‘জিহাদি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিতি পায়। এছাড়া উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় একে ‘গরিবের কোকেন’ও বলা হয়।

গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চালানটি উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিল, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আবহে সেখানে লড়াইরত যোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হতে পারতো।

ক্যাপ্টাগন মূলত ১৯৬০-এর দশকে মনোযোগের অভাব (অ্যাটেনশন ডিসঅর্ডার) ও নার্কোলেপ্সির চিকিৎসার জন্য ‘ফেনিথাইলাইন’ নামে তৈরি করা হয়েছিল। তবে ভয়াবহ আসক্তির কারণে ৮০-এর দশকে অনেক দেশ এটি নিষিদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ একে সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স কনভেনশনে এর ব্যবহার সীমিত করে দেয়।

বর্তমানে কালোবাজারে যে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়, তা আদি রূপের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। ল্যাবরেটরিতে তৈরি এই মাদকে অ্যাম্ফিটামিন, ক্যাফেইন এবং মেথামফেটামিনসহ নানা সিন্থেটিক রাসায়নিকের মিশ্রণ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাদকের সামান্য মাত্রাও অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মানুষের মধ্যে চরম আগ্রাসন, সহিংস আচরণ এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করে।