দেশে শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূলে রয়েছে সময়মতো টিকা না পাওয়া এবং চরম পুষ্টিহীনতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল টিকার অভাব নয়, বরং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল না পাওয়া, বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কমে যাওয়া এবং কৃমিনাশক কর্মসূচির স্থবিরতা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে একদম কমিয়ে দিয়েছে। গত বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ বছরের মে মাস পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গে ৩৪৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার বড় একটি অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৫ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী এবং তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে তা ৮২ শতাংশের বেশি অতিক্রম করেনি। এর ফলে প্রতিবছর ১৮ শতাংশ শিশু অরক্ষিত থেকে যাচ্ছে। এছাড়া জাতীয় টিকা ক্যাম্পেইনগুলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কারণে দফায় দফায় পিছিয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে এই প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করেছে।
পুষ্টিহীনতা শিশুদের এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। প্রতি বছর দুবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের শেষ দিকে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা এবং চোখের সুরক্ষায় ভিটামিন ‘এ’ অপরিহার্য, যার অভাবে শিশুরা সহজেই হামের মতো রোগের শিকারে পরিণত হচ্ছে। পাশাপাশি, জন্মের প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর হার ৬৫ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা শিশুদের প্রাথমিক সুরক্ষা বলয়কে দুর্বল করে দিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও সরকারি অবহেলা ও কর্মসূচির অব্যবস্থাপনায় এত বিপুল সংখ্যক শিশুর প্রাণহানি ঘটছে। কৃমিনাশক কর্মসূচি বন্ধ থাকা এবং পুষ্টি কার্যক্রমের স্থবিরতা শিশুদের শরীরকে এতটাই নাজুক করে তুলেছে যে, সামান্য সংক্রমণেই তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ও শিশু পুষ্টির ঘাটতি পূরণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রিপোর্টারের নাম 

























