দেশে হামে শিশু মৃত্যু অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এই সংকট মোকাবিলায় সংগঠনটি ১০ দফা দাবি ও করণীয় উত্থাপন করেছে। শনিবার (৯ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশীদ, অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম, ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য, ডা. নাজমুস সাকিব ও সজীব তানভীরসহ দেশের বিশিষ্টজনরা এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামের বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট, যা আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা এবং টিকাদান ব্যবস্থার ঘাটতিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। জনস্বাস্থ্য ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি কয়েকটি জরুরি দাবি ও করণীয় তুলে ধরেছে।
তাদের সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে: টিকাদান কর্মসূচিতে ঘনবসতিপূর্ণ, দুর্গম অঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ বা ‘সংক্রামক ব্যাধি কর্নার’ চালু করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভিটামিন-এ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া, শনাক্ত শিশুদের, বিশেষ করে প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের সরকারি চিকিৎসার আওতায় এনে উপযুক্ত সামাজিক সহায়তা দিতে হবে, যাতে তারা চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
টিকা নিয়ে বিদ্যমান ভুল ধারণা ও গুজব মোকাবিলায় কার্যকর জনসচেতনতা কার্যক্রম চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে কমিটি মনে করে।
অন্যান্য করণীয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: একটি শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা, দ্রুত মোকাবিলা কার্যক্রম ও জনস্বাস্থ্যের জরুরি অপারেশন কেন্দ্র সচল করা। পুষ্টি ও ভিটামিন-এ কার্যক্রম জোরদার করা, অপুষ্ট শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং মাতৃদুগ্ধপান ও পুষ্টি কর্মসূচি শক্তিশালী করা। এছাড়াও, হাম নির্মূল কৌশলপত্র পুনরায় সক্রিয় করা এবং ভ্যাকসিন সরবরাহ চেইনকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























