ঢাকা ০৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পুরস্কারের প্রলোভন: এক ক্লিকেই খালি হতে পারে আপনার বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা

“অভিনন্দন! আপনি একটি বিশেষ পুরস্কার জিতেছেন। পুরস্কার নিতে ১ চাপুন, কাস্টমার কেয়ারে কথা বলতে ৩ চাপুন”— সাম্প্রতিক সময়ে দেশের হাজারো মোবাইল ব্যবহারকারী এমন স্বয়ংক্রিয় ফোন কল পাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে নিরীহ বা আকর্ষণীয় মনে হলেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন— এটি ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার একটি নতুন ফাঁদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কলের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। অসতর্ক হয়ে কেউ যদি এই নির্দেশগুলো অনুসরণ করেন, তাহলে মুহূর্তের মধ্যেই তার মোবাইল ব্যালান্স, বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মতো আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে, এমনকি খালিও হয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতারক চক্র সাধারণত রেকর্ড করা ভয়েস ব্যবহার করে একযোগে হাজার হাজার নম্বরে কল পাঠায়। কল রিসিভ করলে গ্রাহককে শোনানো হয় যে তিনি লটারিতে পুরস্কার জিতেছেন, বিশেষ অফার পেয়েছেন অথবা তার মোবাইল নম্বর নির্বাচিত হয়েছে। এরপর বিভিন্ন অপশন চাপতে বলা হয়। কেউ যদি ১, ২ বা ৩ চাপেন, তখন প্রতারকরা বুঝে যায় যে নম্বরটি সক্রিয় এবং ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। পরবর্তীতে তারা সরাসরি ফোন করে নিজেদের মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক কর্মকর্তা, কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি কিংবা সরকারি সংস্থার লোক পরিচয় দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কাছে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি), পিন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। আবার কখনও ভুয়া অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আরও সতর্ক করে বলেন, শুধু কল রিসিভ করাই নয়, অপরিচিত নম্বরে কল ব্যাক করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিছু আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র এমন নম্বর ব্যবহার করে যেখানে কল ব্যাক করলেই অতিরিক্ত চার্জ কেটে নেওয়া হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে কল ব্যাকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নম্বর সক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং পরে আরও বড় প্রতারণার টার্গেট বানানো হয়।

বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং কোটি কোটি মানুষ বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছেন। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্র। তারা সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা, ভয় বা লোভকে ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেকেই না বুঝে অথবা পুরস্কারের লোভে পড়ে তাদের ফাঁদে পা দেন, যার ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। তাই এ ধরনের যেকোনো কল বা বার্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের পর সহিংসতার চিত্র উদ্বেগজনক: লেখকের পর্যবেক্ষণ

পুরস্কারের প্রলোভন: এক ক্লিকেই খালি হতে পারে আপনার বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট, সতর্কবার্তা

আপডেট সময় : ০৯:৪২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

“অভিনন্দন! আপনি একটি বিশেষ পুরস্কার জিতেছেন। পুরস্কার নিতে ১ চাপুন, কাস্টমার কেয়ারে কথা বলতে ৩ চাপুন”— সাম্প্রতিক সময়ে দেশের হাজারো মোবাইল ব্যবহারকারী এমন স্বয়ংক্রিয় ফোন কল পাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে নিরীহ বা আকর্ষণীয় মনে হলেও, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন— এটি ভয়ংকর সাইবার প্রতারণার একটি নতুন ফাঁদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কলের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কিংবা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। অসতর্ক হয়ে কেউ যদি এই নির্দেশগুলো অনুসরণ করেন, তাহলে মুহূর্তের মধ্যেই তার মোবাইল ব্যালান্স, বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মতো আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিতে পড়ে যেতে পারে, এমনকি খালিও হয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতারক চক্র সাধারণত রেকর্ড করা ভয়েস ব্যবহার করে একযোগে হাজার হাজার নম্বরে কল পাঠায়। কল রিসিভ করলে গ্রাহককে শোনানো হয় যে তিনি লটারিতে পুরস্কার জিতেছেন, বিশেষ অফার পেয়েছেন অথবা তার মোবাইল নম্বর নির্বাচিত হয়েছে। এরপর বিভিন্ন অপশন চাপতে বলা হয়। কেউ যদি ১, ২ বা ৩ চাপেন, তখন প্রতারকরা বুঝে যায় যে নম্বরটি সক্রিয় এবং ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। পরবর্তীতে তারা সরাসরি ফোন করে নিজেদের মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক কর্মকর্তা, কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি কিংবা সরকারি সংস্থার লোক পরিচয় দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কাছে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি), পিন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বা মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। আবার কখনও ভুয়া অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আরও সতর্ক করে বলেন, শুধু কল রিসিভ করাই নয়, অপরিচিত নম্বরে কল ব্যাক করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কিছু আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্র এমন নম্বর ব্যবহার করে যেখানে কল ব্যাক করলেই অতিরিক্ত চার্জ কেটে নেওয়া হয়। আবার কিছু ক্ষেত্রে কল ব্যাকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নম্বর সক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং পরে আরও বড় প্রতারণার টার্গেট বানানো হয়।

বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং কোটি কোটি মানুষ বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছেন। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে প্রতারক চক্র। তারা সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা, ভয় বা লোভকে ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেকেই না বুঝে অথবা পুরস্কারের লোভে পড়ে তাদের ফাঁদে পা দেন, যার ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। তাই এ ধরনের যেকোনো কল বা বার্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।