৪ মে, ঢাকা থেকে দোহা হয়ে নিউইয়র্ক এবং এরপর সড়কপথে পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় পৌঁছানো এক বাবার জন্য আনন্দের ভ্রমণ হলেও, যাত্রাপথে পাওয়া একটি খবর তাকে গভীরভাবে আহত করেছে। দোহা বিমানবন্দরে ট্রানজিট লাউঞ্জে বসে তিনি জানতে পারেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। চারপাশে অনেক ভারতীয় যাত্রীর মধ্যে কেউ মোবাইলে ফলাফল দেখছেন, কেউ সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, কেউ আনন্দিত, কেউ হতাশ – গণতন্ত্রের এই স্বাভাবিক চিত্রের মাঝেও তিনি লক্ষ্য করেন কিছু ভিন্নতা।
নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতার ভিডিও এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনাগুলো তাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে। যদিও তিনি স্বীকার করেন যে সামাজিক মাধ্যমে সব তথ্য সত্য নাও হতে পারে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অনেক কিছুই ছড়ানো হয়, তবুও নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশে তৈরি হওয়া অস্বস্তি, উত্তেজনা এবং ভয়ের ছাপ স্পষ্ট বলে তিনি মনে করেন।
লেখক উল্লেখ করেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশের খুবই কাছের এবং এর মানুষজন, ভাষা, সংস্কৃতি, গান এবং স্মৃতি অনেকের কাছেই পরিচিত। তাই পশ্চিমবঙ্গে কোনো সমস্যা হলে তার প্রভাব এপার বাংলাতেও এসে লাগে।
এই নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। বিজেপি ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। লেখকের মতে, গণতন্ত্রে এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও, নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতা ও বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য একটি পরাজয়েরই নামান্তর।
রিপোর্টারের নাম 
























