বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের বৃহত্তর অংশে দীর্ঘদিন ধরেই পানি সংকট বিদ্যমান। বিগত কয়েক দশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও জয়পুরহাটের কিছু এলাকায় এই সংকট দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। এসব অঞ্চলকে ‘সংকটাপন্ন’ ঘোষণা এবং ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
সমগ্র বরেন্দ্র অঞ্চলেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং কম বৃষ্টিপাতের কারণে তীব্র পানি সংকট ও মরুকরণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কৃষিজমি ও জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে, বদলে গেছে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা। গভীর নলকূপ দিয়েও পানি পাওয়া যাচ্ছে না, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য এক বড় হুমকি। এসব এলাকায় প্রায় এক কোটি মানুষ সরাসরি পানির সংকটে ভুগছেন।
এমন পরিস্থিতিতে সরকার গত বছরের ২৪ আগস্ট জাতীয় পানিসম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁসহ পাঁচটি জেলার ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯১১টি মৌজা এবং সাড়ে পাঁচ হাজার গ্রামকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পানিসংকট এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৫০৩টি মৌজাকে অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত বছর ৬ নভেম্বর সরকার পানি সংকটের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করে।
সরকারি গেজেটে শুধু খাওয়ার পানি ছাড়া ১০ বছরের জন্য অন্য কোনো কাজে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৩ সালের পানি আইন অনুযায়ী, এই এলাকায় খাবারের পানি ছাড়া সেচ কিংবা শিল্পকারখানায় গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করা যাবে না। আদেশ লঙ্ঘনকারীকে ‘পানি আইন-২০১৩’ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে সংকটাপন্ন এলাকায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কারণে নতুন করে নলকূপ স্থাপন ও ভূগর্ভস্থ পানি তোলা বন্ধ রাখাসহ মোট ১১টি বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে এসব বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না, যার ফলস্বরূপ ক্রমেই সংকট আরও বাড়ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















