ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সাইবার অপরাধে এআই ব্যবহারে বাধার মুখে হ্যাকাররা

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জয়জয়কার থাকলেও সাইবার অপরাধীরা এই প্রযুক্তিকে তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ হ্যাকারের এআই-এর মতো জটিল ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব রয়েছে। ডার্ক ওয়েব এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ফোরামগুলোর প্রায় ১০ কোটি পোস্ট বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন যে, এআই ব্যবহারের চেষ্টা করলেও অপরাধীরা আশানুরূপ সুবিধা করতে পারছে না।

ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবরা, স্ট্র্যাথক্লাইড এবং কেমব্রিজের একদল গবেষক ‘ক্রাইমবিবি’ ডেটাবেইস ব্যবহার করে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে সাইবার অপরাধীদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, চ্যাটজিপিটি বা এআই কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো টুলগুলো অদক্ষ অপরাধীদের তুলনায় অভিজ্ঞ হ্যাকারদের জন্যই বেশি সহায়ক হচ্ছে। কারণ, এই টুলগুলো থেকে কার্যকর আউটপুট বের করতে গভীর কারিগরি জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি বা বটের মাধ্যমে জালিয়াতির কাজে এআই কিছুটা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে মূলধারার বড় চ্যাটবটগুলোর ‘গার্ডরেইল’ বা নিরাপত্তাব্যবস্থা অপরাধীদের ক্ষতির সক্ষমতাকে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ড. বেন কোলিয়ার জানিয়েছেন যে, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি কারণ সাইবার অপরাধীরা এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও এটি তাদের খুব একটা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না। তবে তিনি একটি ভিন্নধর্মী বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি দুর্বল নিরাপত্তাযুক্ত এআই সিস্টেম ব্যবহার শুরু করে, তবে খুব সামান্য দক্ষতাসম্পন্ন হ্যাকাররাও বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানোর সুযোগ পেয়ে যাবে।

গবেষণায় আরও একটি উদ্বেগজনক দিক উঠে এসেছে। সফটওয়্যার শিল্পে এআই-এর প্রভাবে অনেকেই তাদের নিয়মিত আইটি চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। গবেষকদের মতে, এই কর্মসংস্থানহীনতা অনেক দক্ষ কর্মীকে সাইবার অপরাধের দিকে ধাবিত করতে পারে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম ‘এজেন্টিক এআই’ এবং এআই দিয়ে লেখা অনিরাপদ ‘ভাইবকোডেড’ কোড ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই গবেষণার ফলাফল আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালায় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী সংসদীয় এলাকায় নারী এমপিদের উন্নয়ন তদারকি: প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

সাইবার অপরাধে এআই ব্যবহারে বাধার মুখে হ্যাকাররা

আপডেট সময় : ১১:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জয়জয়কার থাকলেও সাইবার অপরাধীরা এই প্রযুক্তিকে তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে গিয়ে বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ হ্যাকারের এআই-এর মতো জটিল ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা বা পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব রয়েছে। ডার্ক ওয়েব এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ফোরামগুলোর প্রায় ১০ কোটি পোস্ট বিশ্লেষণ করে গবেষকরা জানিয়েছেন যে, এআই ব্যবহারের চেষ্টা করলেও অপরাধীরা আশানুরূপ সুবিধা করতে পারছে না।

ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবরা, স্ট্র্যাথক্লাইড এবং কেমব্রিজের একদল গবেষক ‘ক্রাইমবিবি’ ডেটাবেইস ব্যবহার করে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে সাইবার অপরাধীদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, চ্যাটজিপিটি বা এআই কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্টের মতো টুলগুলো অদক্ষ অপরাধীদের তুলনায় অভিজ্ঞ হ্যাকারদের জন্যই বেশি সহায়ক হচ্ছে। কারণ, এই টুলগুলো থেকে কার্যকর আউটপুট বের করতে গভীর কারিগরি জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি বা বটের মাধ্যমে জালিয়াতির কাজে এআই কিছুটা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তবে মূলধারার বড় চ্যাটবটগুলোর ‘গার্ডরেইল’ বা নিরাপত্তাব্যবস্থা অপরাধীদের ক্ষতির সক্ষমতাকে অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ড. বেন কোলিয়ার জানিয়েছেন যে, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি কারণ সাইবার অপরাধীরা এআই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও এটি তাদের খুব একটা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে না। তবে তিনি একটি ভিন্নধর্মী বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষ বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি দুর্বল নিরাপত্তাযুক্ত এআই সিস্টেম ব্যবহার শুরু করে, তবে খুব সামান্য দক্ষতাসম্পন্ন হ্যাকাররাও বড় ধরনের সাইবার হামলা চালানোর সুযোগ পেয়ে যাবে।

গবেষণায় আরও একটি উদ্বেগজনক দিক উঠে এসেছে। সফটওয়্যার শিল্পে এআই-এর প্রভাবে অনেকেই তাদের নিয়মিত আইটি চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। গবেষকদের মতে, এই কর্মসংস্থানহীনতা অনেক দক্ষ কর্মীকে সাইবার অপরাধের দিকে ধাবিত করতে পারে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম ‘এজেন্টিক এআই’ এবং এআই দিয়ে লেখা অনিরাপদ ‘ভাইবকোডেড’ কোড ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই গবেষণার ফলাফল আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক কর্মশালায় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হবে।