ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

বিশ্বের প্রথম বায়ুশক্তিচালিত পানির নিচের ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং এর ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ও পানির ব্যবহার বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দেশটির সাংহাই উপকূলে বিশ্বের প্রথম বায়ুশক্তিচালিত পানির নিচের ডেটাসেন্টার (আন্ডারওয়াটার ডেটাসেন্টার) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

‘সাংহাই লিংগাং আন্ডারসি ডেটাসেন্টার ডেমনস্ট্রেশন প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি মে মাসে চালু হয়। ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ডেটাসেন্টারটি নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করেছে হাইক্লাউড টেকনোলজি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন।

সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ১০ মিটার নিচে ডেটাসেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। এটি কাছাকাছি একটি অফশোর উইন্ড ফার্ম থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রহণ করে। চীনা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, স্থলভিত্তিক ডেটাসেন্টারের তুলনায় এই প্রকল্পটি ২০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটাসেন্টারটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রের পানির স্বাভাবিক শীতলীকরণ সুবিধা ব্যবহার করায় এর শক্তি চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণ ডেটাসেন্টারে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে মোট বিদ্যুতের ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কেবল কুলিং ব্যবস্থায় ব্যয় হয়, যা এখানে সাশ্রয় হচ্ছে।

এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো হিসেবে পরিচিত ডেটাসেন্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছে। পানির নিচে ডেটাসেন্টার স্থাপনের ফলে মিঠা পানির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ডেটাসেন্টারগুলোর পানি ব্যবহার ৯.৩ ট্রিলিয়ন লিটারে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাব-সাহারান আফ্রিকার ১৩০ কোটি মানুষের এক বছরের গৃহস্থালি পানির চাহিদার সমান।

এর আগে ২০২৩ সালে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান দ্বীপে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক পানির নিচের ডেটাসেন্টার চালু করেছিল হাইক্লাউড। তবে সাংহাইয়ের নতুন প্রকল্পটিই প্রথম, যা সম্পূর্ণভাবে অফশোর বায়ুশক্তির ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, পানির নিচের ডেটাসেন্টার প্রযুক্তি নিয়ে প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট, যারা ২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছিল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

বিশ্বের প্রথম বায়ুশক্তিচালিত পানির নিচের ডেটাসেন্টার চালু করল চীন

আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং এর ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ও পানির ব্যবহার বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দেশটির সাংহাই উপকূলে বিশ্বের প্রথম বায়ুশক্তিচালিত পানির নিচের ডেটাসেন্টার (আন্ডারওয়াটার ডেটাসেন্টার) আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

‘সাংহাই লিংগাং আন্ডারসি ডেটাসেন্টার ডেমনস্ট্রেশন প্রজেক্ট’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পটি মে মাসে চালু হয়। ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ডেটাসেন্টারটি নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করেছে হাইক্লাউড টেকনোলজি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন।

সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠের প্রায় ১০ মিটার নিচে ডেটাসেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছে। এটি কাছাকাছি একটি অফশোর উইন্ড ফার্ম থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ গ্রহণ করে। চীনা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, স্থলভিত্তিক ডেটাসেন্টারের তুলনায় এই প্রকল্পটি ২০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটাসেন্টারটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্রের পানির স্বাভাবিক শীতলীকরণ সুবিধা ব্যবহার করায় এর শক্তি চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণ ডেটাসেন্টারে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে মোট বিদ্যুতের ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কেবল কুলিং ব্যবস্থায় ব্যয় হয়, যা এখানে সাশ্রয় হচ্ছে।

এআই প্রযুক্তির অবকাঠামো হিসেবে পরিচিত ডেটাসেন্টারগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের কারণে সমালোচনার মুখে রয়েছে। পানির নিচে ডেটাসেন্টার স্থাপনের ফলে মিঠা পানির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ডেটাসেন্টারগুলোর পানি ব্যবহার ৯.৩ ট্রিলিয়ন লিটারে পৌঁছানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাব-সাহারান আফ্রিকার ১৩০ কোটি মানুষের এক বছরের গৃহস্থালি পানির চাহিদার সমান।

এর আগে ২০২৩ সালে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান দ্বীপে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক পানির নিচের ডেটাসেন্টার চালু করেছিল হাইক্লাউড। তবে সাংহাইয়ের নতুন প্রকল্পটিই প্রথম, যা সম্পূর্ণভাবে অফশোর বায়ুশক্তির ওপর নির্ভরশীল। উল্লেখ্য, পানির নিচের ডেটাসেন্টার প্রযুক্তি নিয়ে প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট, যারা ২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করেছিল।