ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে শুরু হচ্ছে ভর্তি মৌসুম, লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে স্কুলে ভর্তি মৌসুম। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম এবারও লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, আর ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে ডিজিটাল লটারি।

সোমবার (১০ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা মহানগর ভর্তি কমিটির সদস্য ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‌‘এবারও লটারি ভর্তি প্রক্রিয়া কারিগরি সহায়তা দেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক। অনলাইনে আবেদন নিয়ে লটারি প্রক্রিয়া চালানো হবে।’

প্রথমদিকে শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি করা হলেও, ২০২১ সাল থেকে করোনাকালে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রমও ডিজিটাল লটারির আওতায় আনা হয়। এরপর থেকে এ প্রক্রিয়াই চালু আছে।

গত শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫ হাজার ৬২৫টি স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসন ছিল প্রায় ১১ লাখ ১৭ হাজার। এর মধ্যে সরকারি স্কুলে আসন সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এবারও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রতিযোগিতা তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৬৮০টি সরকারি স্কুলে আসন ছিল প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার, আর ৪ হাজার ৯৪৫টি বেসরকারি স্কুলে আসন ছিল ১০ লাখ ৮ হাজারের মতো।

মাউশির সহকারী পরিচালক জিয়াউল হায়দার হেনরী জানান, গত বছর মোট আবেদন জমা পড়েছিল ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৪টি। এর মধ্যে সরকারি স্কুলের জন্য আবেদন করে ৬ লাখ ২৫ হাজার ৯০৪ জন, যা শূন্য আসনের ছয়গুণেরও বেশি। বেসরকারি স্কুলে আবেদন জমা পড়ে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার। তবুও প্রায় সাড়ে ছয় লাখ আসন ফাঁকা ছিল।

নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায়ও আগের বেশিরভাগ নিয়ম বহাল থাকছে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা। মফস্বল এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা, আর মহানগর এলাকায় (ঢাকা বাদে) সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া যাবে। ঢাকা মহানগরের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি নিতে পারবে, আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নিতে পারবে। ইংরেজি ভার্সনের ক্ষেত্রে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা।

এছাড়া উন্নয়ন ফি তিন হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না এবং একই প্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না, শুধু বার্ষিক সেশন চার্জ নেওয়া যাবে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর জন্মতারিখ হতে হবে ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০-এর মধ্যে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে শুরু হচ্ছে ভর্তি মৌসুম, লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম

আপডেট সময় : ১১:০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে স্কুলে ভর্তি মৌসুম। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম এবারও লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত হবে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, আর ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে ডিজিটাল লটারি।

সোমবার (১০ নভেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর মহাপরিচালক অধ্যাপক বি এম আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা মহানগর ভর্তি কমিটির সদস্য ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‌‘এবারও লটারি ভর্তি প্রক্রিয়া কারিগরি সহায়তা দেবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক। অনলাইনে আবেদন নিয়ে লটারি প্রক্রিয়া চালানো হবে।’

প্রথমদিকে শুধুমাত্র প্রথম শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি করা হলেও, ২০২১ সাল থেকে করোনাকালে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রমও ডিজিটাল লটারির আওতায় আনা হয়। এরপর থেকে এ প্রক্রিয়াই চালু আছে।

গত শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৫ হাজার ৬২৫টি স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য আসন ছিল প্রায় ১১ লাখ ১৭ হাজার। এর মধ্যে সরকারি স্কুলে আসন সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এবারও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রতিযোগিতা তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৬৮০টি সরকারি স্কুলে আসন ছিল প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার, আর ৪ হাজার ৯৪৫টি বেসরকারি স্কুলে আসন ছিল ১০ লাখ ৮ হাজারের মতো।

মাউশির সহকারী পরিচালক জিয়াউল হায়দার হেনরী জানান, গত বছর মোট আবেদন জমা পড়েছিল ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৭০৪টি। এর মধ্যে সরকারি স্কুলের জন্য আবেদন করে ৬ লাখ ২৫ হাজার ৯০৪ জন, যা শূন্য আসনের ছয়গুণেরও বেশি। বেসরকারি স্কুলে আবেদন জমা পড়ে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার। তবুও প্রায় সাড়ে ছয় লাখ আসন ফাঁকা ছিল।

নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি নীতিমালায়ও আগের বেশিরভাগ নিয়ম বহাল থাকছে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা। মফস্বল এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা, আর মহানগর এলাকায় (ঢাকা বাদে) সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া যাবে। ঢাকা মহানগরের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভর্তি ফি নিতে পারবে, আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নিতে পারবে। ইংরেজি ভার্সনের ক্ষেত্রে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা।

এছাড়া উন্নয়ন ফি তিন হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না এবং একই প্রতিষ্ঠানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না, শুধু বার্ষিক সেশন চার্জ নেওয়া যাবে।

২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর জন্মতারিখ হতে হবে ১ জানুয়ারি ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০-এর মধ্যে।