ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কক্সবাজারের লবণ মাঠ: পানিতে মিশে গেল কোটি টাকার স্বপ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারে হঠাৎ হানা দেওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ। গত তিন দিনে উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ বৃষ্টির পানিতে গলে মিশে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার উপকূলীয় এলাকায় লবণের বেডগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। চাষিরা জানিয়েছেন, নষ্ট হওয়া মাঠগুলো পরিষ্কার করে পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মৌসুমের শেষ সময়ে প্রকৃতির এই বৈরী আচরণ অনেক চাষিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বৃষ্টিতে লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করতে বাড়তি শ্রম ও জ্বালানি খরচ হবে। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে, যার বড় একটি অংশ আসে কক্সবাজারের মহেশখালীসহ চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকা থেকে। মহেশখালীতেই প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশ। বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই দুর্যোগের ফলে জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। লবণের নায্যমূল্য না থাকায় এমনিতেই চাষিরা সংকটে ছিলেন, তার ওপর কালবৈশাখীর এই আঘাত তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

অধ্যাদেশ ও সংস্কার ইস্যুতে সরকারের ইউ-টার্ন

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কক্সবাজারের লবণ মাঠ: পানিতে মিশে গেল কোটি টাকার স্বপ্ন

আপডেট সময় : ১১:২০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

কক্সবাজারে হঠাৎ হানা দেওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ। গত তিন দিনে উৎপাদিত ও উৎপাদনাধীন বিপুল পরিমাণ লবণ বৃষ্টির পানিতে গলে মিশে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও, পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার উপকূলীয় এলাকায় লবণের বেডগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। চাষিরা জানিয়েছেন, নষ্ট হওয়া মাঠগুলো পরিষ্কার করে পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৫ থেকে ৭ দিন সময় লাগবে। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে মৌসুমের শেষ সময়ে প্রকৃতির এই বৈরী আচরণ অনেক চাষিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বৃষ্টিতে লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় পুনরায় উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করতে বাড়তি শ্রম ও জ্বালানি খরচ হবে। চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশে প্রায় ২৭ লাখ ১৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে, যার বড় একটি অংশ আসে কক্সবাজারের মহেশখালীসহ চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকা থেকে। মহেশখালীতেই প্রায় ১৭ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের এক-চতুর্থাংশ। বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই দুর্যোগের ফলে জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। লবণের নায্যমূল্য না থাকায় এমনিতেই চাষিরা সংকটে ছিলেন, তার ওপর কালবৈশাখীর এই আঘাত তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।