ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ঝালকাঠিতে এক গাছে হাজার আমড়া: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

প্রকৃতির অপার বিস্ময়ের এক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে ঝালকাঠির রাজাপুরে। সেখানে একটি আমড়া গাছের প্রতিটি থোকায় ঝুলছে শত শত আমড়া, যা দেখে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক জনতাও মুগ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়কৈ cỡখালী গ্রামের মিলবাড়ী এলাকায় প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে অগণিত মানুষ। ৫০ টাকার একটি চারাগাছ আজ এলাকার বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে।

বড়কৈ cỡখালী গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ, যিনি পেশায় একজন টমটমচালক, তিন বছর আগে নতুন বাড়িতে রোপণের উদ্দেশ্যে স্থানীয় পাকাপুল বাজার থেকে স্বরূপকাঠির এক ভ্রাম্যমাণ চারা বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০ টাকা করে মোট ১৫০ টাকায় তিনটি আমড়া চারা কেনেন। এর মধ্যে দুটি ছিল সাধারণ জাতের এবং একটি হাইব্রিড জাতের। চলতি বছর তিনটি গাছেই প্রথমবারের মতো ফল আসে। সাধারণ দুটি গাছে স্বাভাবিক ফলন হলেও হাইব্রিড গাছটিতে দেখা দেয় এক বিস্ময়কর দৃশ্য। গাছটিতে ১৪টি থোকা এসেছে, কিন্তু প্রতিটি থোকায় রয়েছে শত শত আমড়া! কারো কারো মতে, গাছজুড়ে আমড়ার সংখ্যা হাজারের বেশি।

কৃষক মাসুদ জানান, গাছটিতে বাড়তি কোনো রাসায়নিক সার বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। শুধু গোড়ায় নিজের গরুর গোবর ব্যবহার করেছিলেন। চোখের সামনেই এমন অবিশ্বাস্য ফলন দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত। তবে, আমড়াগুলো আকারে বড় হতে শুরু করায় যে কোনো সময় ফলসহ ডাল ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ফল টিকিয়ে রাখতে এবং ডাল ভাঙা রোধ করতে মূল গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে টেনে টেনে থোকাগুলোকে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ফল কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, সে বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান মাসুদ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আমড়াগাছের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে মাসুদের নতুন বাড়িতে। দর্শনার্থীরা গাছের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে ও ভিডিও করছে, প্রকাশ করছে গভীর বিস্ময়। দেখতে আসা বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, ফেসবুকে ভিডিও দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি, ভেবেছিলেন এডিটিং বা ভুয়া খবর। কিন্তু এখানে এসে নিজের চোখে দেখে তারা হতবাক। এক থোকায় যে এত আমড়া ধরতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

ঝালকাঠিতে এক গাছে হাজার আমড়া: গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

প্রকৃতির অপার বিস্ময়ের এক উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে ঝালকাঠির রাজাপুরে। সেখানে একটি আমড়া গাছের প্রতিটি থোকায় ঝুলছে শত শত আমড়া, যা দেখে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা উৎসুক জনতাও মুগ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়কৈ cỡখালী গ্রামের মিলবাড়ী এলাকায় প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছে অগণিত মানুষ। ৫০ টাকার একটি চারাগাছ আজ এলাকার বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে।

বড়কৈ cỡখালী গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ, যিনি পেশায় একজন টমটমচালক, তিন বছর আগে নতুন বাড়িতে রোপণের উদ্দেশ্যে স্থানীয় পাকাপুল বাজার থেকে স্বরূপকাঠির এক ভ্রাম্যমাণ চারা বিক্রেতার কাছ থেকে ৫০ টাকা করে মোট ১৫০ টাকায় তিনটি আমড়া চারা কেনেন। এর মধ্যে দুটি ছিল সাধারণ জাতের এবং একটি হাইব্রিড জাতের। চলতি বছর তিনটি গাছেই প্রথমবারের মতো ফল আসে। সাধারণ দুটি গাছে স্বাভাবিক ফলন হলেও হাইব্রিড গাছটিতে দেখা দেয় এক বিস্ময়কর দৃশ্য। গাছটিতে ১৪টি থোকা এসেছে, কিন্তু প্রতিটি থোকায় রয়েছে শত শত আমড়া! কারো কারো মতে, গাছজুড়ে আমড়ার সংখ্যা হাজারের বেশি।

কৃষক মাসুদ জানান, গাছটিতে বাড়তি কোনো রাসায়নিক সার বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। শুধু গোড়ায় নিজের গরুর গোবর ব্যবহার করেছিলেন। চোখের সামনেই এমন অবিশ্বাস্য ফলন দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত। তবে, আমড়াগুলো আকারে বড় হতে শুরু করায় যে কোনো সময় ফলসহ ডাল ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ফল টিকিয়ে রাখতে এবং ডাল ভাঙা রোধ করতে মূল গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে টেনে টেনে থোকাগুলোকে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ফল কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়, সে বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান মাসুদ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আমড়াগাছের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে মাসুদের নতুন বাড়িতে। দর্শনার্থীরা গাছের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে ও ভিডিও করছে, প্রকাশ করছে গভীর বিস্ময়। দেখতে আসা বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, ফেসবুকে ভিডিও দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি, ভেবেছিলেন এডিটিং বা ভুয়া খবর। কিন্তু এখানে এসে নিজের চোখে দেখে তারা হতবাক। এক থোকায় যে এত আমড়া ধরতে পারে, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।