ঢাকা ০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকাতে জাতিসংঘের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধ অন্তর্ভুক্তি রোধে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারের উদ্যোগ আবারও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এবার পুরো তথ্যভাণ্ডার সংগ্রহের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সংযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য যাচাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইউএনএইচসিআরের তথ্যভাণ্ডারে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিস্তারিত পরিচয় সংরক্ষিত রয়েছে। ওই তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সংযোগ স্থাপন করা গেলে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে রোহিঙ্গাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নতুন পরিকল্পনায় সরাসরি তথ্য বিনিময়ের পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত বছরের উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় পুনরায় ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংস্থাটির কাছে নতুন করে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তাদের একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। স্থানীয় পরিচয় ব্যবহার, ভুয়া তথ্য প্রদান কিংবা দালাল চক্রের সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনা ঠেকাতে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকায় ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নতুন আবেদনকারীদের বিভিন্ন স্তরে পরিচয় যাচাই করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হলে আবেদন বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সেখানে বিস্তারিত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আবেদনকারী ভোটার হওয়ার যোগ্য কি না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, ইউএনএইচসিআরের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন করা গেলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা আরও বাড়বে এবং অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকাতে জাতিসংঘের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চায় ইসি

আপডেট সময় : ০৩:৩২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধ অন্তর্ভুক্তি রোধে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারের উদ্যোগ আবারও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এবার পুরো তথ্যভাণ্ডার সংগ্রহের পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সংযোগ পদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য যাচাইয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ইউএনএইচসিআরের তথ্যভাণ্ডারে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিস্তারিত পরিচয় সংরক্ষিত রয়েছে। ওই তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সংযোগ স্থাপন করা গেলে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনকারী সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরিচয় সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে রোহিঙ্গাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভাণ্ডার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে জটিলতার কারণে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নতুন পরিকল্পনায় সরাসরি তথ্য বিনিময়ের পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত বছরের উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় পুনরায় ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংস্থাটির কাছে নতুন করে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখের কাছাকাছি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তাদের একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পের বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। স্থানীয় পরিচয় ব্যবহার, ভুয়া তথ্য প্রদান কিংবা দালাল চক্রের সহায়তায় জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনা ঠেকাতে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। এসব এলাকায় ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, নতুন আবেদনকারীদের বিভিন্ন স্তরে পরিচয় যাচাই করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হলে আবেদন বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। সেখানে বিস্তারিত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আবেদনকারী ভোটার হওয়ার যোগ্য কি না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, ইউএনএইচসিআরের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সমন্বয় স্থাপন করা গেলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা আরও বাড়বে এবং অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।