ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ছেলের নতুন ভবনে ঠাঁই মেলেনি ৯৫ বছর বয়সী ছামেনা খাতুনের, ঘটনায় ক্ষোভ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছামেনা খাতুন তার ছেলের নতুন নির্মিত ভবনে ঠাঁই পাননি। উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ছামেনা খাতুনের জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। ২০০৮ সালে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে প্রবাসী। ২০০৮ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর ২০০৯ সালে ফয়েজ আহমেদ তার মাকে ভরণপোষণ না দিয়ে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই বসবাস করছিলেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফেরার পর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ তার মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন এবং একটি নতুন ভবনও নির্মাণ করেন। কিন্তু গত ৪ মে ফয়েজ আহমেদ সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পর তার স্ত্রী রুমা বেগম ছামেনা খাতুনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। গভীর রাতে তাকে তার শাশুড়ির (রোকেয়ার) ঘরে পাঠানো হয়।

রোকেয়া বেগম জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ফয়েজ আহমেদ ও তার স্ত্রী রুমা বেগম ছামেনা খাতুনের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ২০১১ সালে তারা মাকে তার বাড়িতে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেয়। সমাজের মানুষের অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ মাকে ঘরে তুললেও সৌদি চলে যাওয়ার পর রুমা বেগম রাতের আঁধারে তাকে নতুন ভবন থেকে বের করে দেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন ছামেনা খাতুন।

ছামেনা খাতুন বলেন, আমাকে ছেলের নতুন ঘর থেকে অনেক বছর আগে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না।

আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন এবং খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ছামেনা খাতুনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, শোকস্তব্ধ এলাকাবাসী

ছেলের নতুন ভবনে ঠাঁই মেলেনি ৯৫ বছর বয়সী ছামেনা খাতুনের, ঘটনায় ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:১৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা ছামেনা খাতুন তার ছেলের নতুন নির্মিত ভবনে ঠাঁই পাননি। উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ছামেনা খাতুনের জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। ২০০৮ সালে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে প্রবাসী। ২০০৮ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর ২০০৯ সালে ফয়েজ আহমেদ তার মাকে ভরণপোষণ না দিয়ে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি সেখানেই বসবাস করছিলেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফেরার পর গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ তার মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন এবং একটি নতুন ভবনও নির্মাণ করেন। কিন্তু গত ৪ মে ফয়েজ আহমেদ সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পর তার স্ত্রী রুমা বেগম ছামেনা খাতুনকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। গভীর রাতে তাকে তার শাশুড়ির (রোকেয়ার) ঘরে পাঠানো হয়।

রোকেয়া বেগম জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ফয়েজ আহমেদ ও তার স্ত্রী রুমা বেগম ছামেনা খাতুনের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। ২০১১ সালে তারা মাকে তার বাড়িতে জোরপূর্বক পাঠিয়ে দেয়। সমাজের মানুষের অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ মাকে ঘরে তুললেও সৌদি চলে যাওয়ার পর রুমা বেগম রাতের আঁধারে তাকে নতুন ভবন থেকে বের করে দেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন ছামেনা খাতুন।

ছামেনা খাতুন বলেন, আমাকে ছেলের নতুন ঘর থেকে অনেক বছর আগে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না।

আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশর জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন এবং খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ছামেনা খাতুনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বৃদ্ধা ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।