ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ধর্ষণের ন্যায়বিচার: সময়সীমা মেনে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি

ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে, প্রতিটি মামলাতেই আইনে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন বক্তারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, চলমান মামলাগুলোতে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির অভাব, ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, শাস্তি প্রদানের নির্দেশিকার অভাব এবং ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার প্রবণতা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষ, যেমন — বিচারক, আইনজীবী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি মনে করেন, বিচার ব্যবস্থা দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান না হলে অপরাধীরা আরও বেশি নির্ভীক হয়ে উঠবে। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগ ও সামাজিক পর্যায় থেকে সহিংসতা প্রতিরোধ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ব্লাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আলোচিত বা জনমতের চাপে সৃষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সব ক্ষেত্রেই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারও সমানভাবে সংরক্ষিত রাখতে হবে। আইন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি জিনাত আরা একটি অভিন্ন শাস্তি প্রদানের নির্দেশিকা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন, যা ধর্ষণ অপরাধের ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণে নাগরিক সামাজিক সংগঠনগুলোর সচেতনতা প্রশংসার দাবি রাখে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

ধর্ষণের ন্যায়বিচার: সময়সীমা মেনে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতের দাবি

আপডেট সময় : ১১:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা না করে, প্রতিটি মামলাতেই আইনে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন বক্তারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, চলমান মামলাগুলোতে নিয়মিত ও কার্যকর তদারকির অভাব, ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রতিবেদন প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা, শাস্তি প্রদানের নির্দেশিকার অভাব এবং ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার প্রবণতা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষ, যেমন — বিচারক, আইনজীবী এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা জরুরি। তিনি মনে করেন, বিচার ব্যবস্থা দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান না হলে অপরাধীরা আরও বেশি নির্ভীক হয়ে উঠবে। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগ ও সামাজিক পর্যায় থেকে সহিংসতা প্রতিরোধ নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ব্লাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, আলোচিত বা জনমতের চাপে সৃষ্ট ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সব ক্ষেত্রেই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। এক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারও সমানভাবে সংরক্ষিত রাখতে হবে। আইন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি জিনাত আরা একটি অভিন্ন শাস্তি প্রদানের নির্দেশিকা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন, যা ধর্ষণ অপরাধের ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণে নাগরিক সামাজিক সংগঠনগুলোর সচেতনতা প্রশংসার দাবি রাখে।