ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণ শুরু, নিয়ন্ত্রণ জোরদারে বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে আনতে চারটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভূমি দখল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে আলোচিত এ এলাকাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) গত ৪ জুন থেকে প্রকল্পটির কাজ শুরু করে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ চারটি সড়ক, তিনটি সেতু, কয়েকটি কালভার্ট এবং প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে।

সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমে নিরাপত্তা সহায়তা দিচ্ছে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব।

সোমবার (৮ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল আলম মাসুদ জানান, প্রথম পর্যায়ে আলীনগর থেকে একটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ ও মাটি কাটার কাজ চলছে। সড়কটির প্রস্থ হবে ১৮ ফুট এবং পাহাড়ধস প্রতিরোধে বিভিন্ন স্থানে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে।

তিনি জানান, আলীনগর থেকে আরও একটি সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আলীনগর থেকে ছিন্নমূল এলাকা পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করে তা বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আরও একটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা মৌসুমেও কাজ অব্যাহত থাকবে। প্রাথমিকভাবে মাটি কেটে সড়কের ভিত্তি প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা বৃষ্টির পানিতে আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াবে।

সরকারি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির জন্য এখনো আলাদা কোনো বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার ভিত্তিতেই কাজ শুরু হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাটিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ে।

গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনকালে এলাকাটিকে সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। তিনি সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়ন, ভাটিয়ারি এবং হাটহাজারী বাইপাস হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে আলীনগর বিদ্যালয় থেকে ভাটিয়ারি-হাটহাজারী সংযোগ সড়ক পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করতে প্রায় আট মাস সময় লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত বিচ্ছিন্নতাও দূর হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণ শুরু, নিয়ন্ত্রণ জোরদারে বড় উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০২:২৯:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণে আনতে চারটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভূমি দখল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে আলোচিত এ এলাকাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীন ২৬ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) গত ৪ জুন থেকে প্রকল্পটির কাজ শুরু করে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ চারটি সড়ক, তিনটি সেতু, কয়েকটি কালভার্ট এবং প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করা হবে।

সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমে নিরাপত্তা সহায়তা দিচ্ছে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব।

সোমবার (৮ জুন) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ২৬ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল আলম মাসুদ জানান, প্রথম পর্যায়ে আলীনগর থেকে একটি সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ ও মাটি কাটার কাজ চলছে। সড়কটির প্রস্থ হবে ১৮ ফুট এবং পাহাড়ধস প্রতিরোধে বিভিন্ন স্থানে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে।

তিনি জানান, আলীনগর থেকে আরও একটি সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আলীনগর থেকে ছিন্নমূল এলাকা পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করে তা বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য আরও একটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্ষা মৌসুমেও কাজ অব্যাহত থাকবে। প্রাথমিকভাবে মাটি কেটে সড়কের ভিত্তি প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা বৃষ্টির পানিতে আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াবে।

সরকারি সূত্র জানায়, প্রকল্পটির জন্য এখনো আলাদা কোনো বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার ভিত্তিতেই কাজ শুরু হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাটিতে বর্তমানে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়ে।

গত ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনকালে এলাকাটিকে সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনার ঘোষণা দেন। তিনি সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়ন, ভাটিয়ারি এবং হাটহাজারী বাইপাস হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপাতত উচ্ছেদ করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপে আলীনগর বিদ্যালয় থেকে ভাটিয়ারি-হাটহাজারী সংযোগ সড়ক পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করতে প্রায় আট মাস সময় লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে জঙ্গল সলিমপুরে প্রশাসনিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত বিচ্ছিন্নতাও দূর হবে।