ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ঈশ্বরদীতে লিচু বিক্রি থেকে ৮০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা, বাম্পার ফলনে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ী

পাবনার ঈশ্বরদীতে লিচুর মৌসুম এখন শেষ পর্যায়ে। বাগানজুড়ে চলছে লিচু সংগ্রহের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। লিচু সংগ্রহ, পাতা থেকে ছাড়ানো, কার্টন ও লটে ভরা এবং এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাকযোগে পরিবহন—সব মিলিয়ে এক কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি বিভাগ এবং চাষিদের আশা, এ বছর বাম্পার ফলনের কারণে ঈশ্বরদীসহ পুরো পাবনা জেলায় লিচু বিক্রি থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় চাষিদের সূত্রে জানা গেছে, এই বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লিচুর উৎপাদন আশাতীত হয়েছে। চাষিদের ভাষায়, এটি লিচুর ‘অন ইয়ার’ হওয়ায় গাছে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় মোজাফফরী বা আঁটি লিচু বাজারে আসে। বর্তমানে বিখ্যাত বোম্বাই এবং চায়না-৩ জাতের লিচুর ভরা মৌসুম চলছে।

কৃষিতে তিনবার রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী জানান, প্রথমদিকে ঈশ্বরদীর জয়নগর, মানিকনগর ও মিরকামারি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ শুরু হলেও, বর্তমানে ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর ও পাবনা সদরসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর আবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা ও সচ্ছল কৃষকও এখন লিচু চাষে বিনিয়োগ করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৭২৩ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ঈশ্বরদী উপজেলাতেই প্রায় ৩ হাজার হেক্টর লিচু বাগান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর সাধারণত ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়, তবে এ বছর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রির পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চাষিরা সবচেয়ে বেশি বোম্বাই জাতের লিচুর আবাদ করেছেন। এছাড়া বেদানা, কদমী, দেশি আঁটি বা মোজাফফরী এবং চায়না-৩ জাতের লিচুও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত হয়েছে। ঈশ্বরদীর সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫ হাজার লিচুচাষি এই ফল চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। স্থানীয় লিচুচাষি আব্দুল জলিল কিতাব মণ্ডল বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান থেকে প্রতি ১০০টি লিচু মানভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

ঈশ্বরদীতে লিচু বিক্রি থেকে ৮০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা, বাম্পার ফলনে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ী

আপডেট সময় : ১০:২৬:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে লিচুর মৌসুম এখন শেষ পর্যায়ে। বাগানজুড়ে চলছে লিচু সংগ্রহের শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। লিচু সংগ্রহ, পাতা থেকে ছাড়ানো, কার্টন ও লটে ভরা এবং এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রাকযোগে পরিবহন—সব মিলিয়ে এক কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি বিভাগ এবং চাষিদের আশা, এ বছর বাম্পার ফলনের কারণে ঈশ্বরদীসহ পুরো পাবনা জেলায় লিচু বিক্রি থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় চাষিদের সূত্রে জানা গেছে, এই বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লিচুর উৎপাদন আশাতীত হয়েছে। চাষিদের ভাষায়, এটি লিচুর ‘অন ইয়ার’ হওয়ায় গাছে গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় মোজাফফরী বা আঁটি লিচু বাজারে আসে। বর্তমানে বিখ্যাত বোম্বাই এবং চায়না-৩ জাতের লিচুর ভরা মৌসুম চলছে।

কৃষিতে তিনবার রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক শাহজাহান আলী জানান, প্রথমদিকে ঈশ্বরদীর জয়নগর, মানিকনগর ও মিরকামারি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ শুরু হলেও, বর্তমানে ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর ও পাবনা সদরসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর আবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক উদ্যোক্তা ও সচ্ছল কৃষকও এখন লিচু চাষে বিনিয়োগ করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৭২৩ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে শুধু ঈশ্বরদী উপজেলাতেই প্রায় ৩ হাজার হেক্টর লিচু বাগান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর সাধারণত ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়, তবে এ বছর উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রির পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চাষিরা সবচেয়ে বেশি বোম্বাই জাতের লিচুর আবাদ করেছেন। এছাড়া বেদানা, কদমী, দেশি আঁটি বা মোজাফফরী এবং চায়না-৩ জাতের লিচুও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদিত হয়েছে। ঈশ্বরদীর সলিমপুর, সাহাপুর, পাকশী, দাশুড়িয়া ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫ হাজার লিচুচাষি এই ফল চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। স্থানীয় লিচুচাষি আব্দুল জলিল কিতাব মণ্ডল বলেন, ‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান থেকে প্রতি ১০০টি লিচু মানভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।’