ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ: বাহরাইনে আলা ইবনে হাজরামির অভিযান

খলিফা আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে ধর্মদ্রোহ বা ধর্মত্যাগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ধারাবাহিকতায় সপ্তম বাহিনী হিসেবে আলা ইবনে হাজরামির নেতৃত্বে একটি সেনাদল বাহরাইনের আবদে কায়স গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। এই বাহিনীটি দীর্ঘ ও দুর্গম এক নির্জন মরুপথ অতিক্রম করে হাজার নামক স্থানে মুরতাদদের মুখোমুখি হয়, যারা ইসলাম ত্যাগ করেছিল। এই অঞ্চলের প্রায় সকল গোত্র, বিশেষ করে শক্তিশালী আবদে কায়স গোত্র ধর্মদ্রোহে লিপ্ত হয়েছিল।

তবে, সমগ্র বাহরাইন অঞ্চল মুরতাদ হয়ে গেলেও জুওয়াসা নামক একটি ছোট জনপদ ইসলামের উপর অটল ছিল। চতুর্দিক থেকে মুরতাদদের চাপে তারা যখন বিভ্রান্তির মুখে পড়ে, তখন তাদের গোত্রের নেতা জারুদ ইবনে ইয়ালা তাদের সাহস জোগান। তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, পূর্ববর্তী নবীগণও ইন্তেকাল করেছেন এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও একইভাবে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি সাক্ষ্য দেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।’ তার এই বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রামবাসীও ইসলামের সাক্ষ্য দেয়।

জুওয়াসা গ্রামের এই অটল ভূমিকার কারণে প্রতিবেশী মুরতাদ গোত্রগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রামটিকে চারদিক থেকে অবরোধ করে। খাদ্যের সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী চরম খাদ্য সংকটে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আলা ইবনে হাজরামি বাহিনী নিয়ে হাজার নামক স্থানে পৌঁছান। তিনি বিচক্ষণতার সাথে প্রতিবেশী গোত্রগুলোকে পুনরায় ইসলামের দাওয়াত দেন এবং বনু তামিম গোত্র তার আহ্বানে সাড়া দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ও অনলাইন গেমের আসক্তি: কিশোর মনে এক ভয়াবহ মায়ার জগত

খেলাফত রাষ্ট্রে ধর্মদ্রোহ প্রতিরোধ: বাহরাইনে আলা ইবনে হাজরামির অভিযান

আপডেট সময় : ০৬:২৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

খলিফা আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলে ধর্মদ্রোহ বা ধর্মত্যাগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই ধারাবাহিকতায় সপ্তম বাহিনী হিসেবে আলা ইবনে হাজরামির নেতৃত্বে একটি সেনাদল বাহরাইনের আবদে কায়স গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে। এই বাহিনীটি দীর্ঘ ও দুর্গম এক নির্জন মরুপথ অতিক্রম করে হাজার নামক স্থানে মুরতাদদের মুখোমুখি হয়, যারা ইসলাম ত্যাগ করেছিল। এই অঞ্চলের প্রায় সকল গোত্র, বিশেষ করে শক্তিশালী আবদে কায়স গোত্র ধর্মদ্রোহে লিপ্ত হয়েছিল।

তবে, সমগ্র বাহরাইন অঞ্চল মুরতাদ হয়ে গেলেও জুওয়াসা নামক একটি ছোট জনপদ ইসলামের উপর অটল ছিল। চতুর্দিক থেকে মুরতাদদের চাপে তারা যখন বিভ্রান্তির মুখে পড়ে, তখন তাদের গোত্রের নেতা জারুদ ইবনে ইয়ালা তাদের সাহস জোগান। তিনি তাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, পূর্ববর্তী নবীগণও ইন্তেকাল করেছেন এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও একইভাবে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি সাক্ষ্য দেন, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।’ তার এই বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রামবাসীও ইসলামের সাক্ষ্য দেয়।

জুওয়াসা গ্রামের এই অটল ভূমিকার কারণে প্রতিবেশী মুরতাদ গোত্রগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে গ্রামটিকে চারদিক থেকে অবরোধ করে। খাদ্যের সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী চরম খাদ্য সংকটে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আলা ইবনে হাজরামি বাহিনী নিয়ে হাজার নামক স্থানে পৌঁছান। তিনি বিচক্ষণতার সাথে প্রতিবেশী গোত্রগুলোকে পুনরায় ইসলামের দাওয়াত দেন এবং বনু তামিম গোত্র তার আহ্বানে সাড়া দেয়।