দেশের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে তা বহু পরিবারে বয়ে আনে গভীর শোক ও বিষাদ। প্রতি বছর ঈদযাত্রায় প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারান, যা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দেয়। গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতেও এর ব্যতিক্রম হয়নি; সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে অসংখ্য দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সড়কেই ঘটেছে সিংহভাগ প্রাণহানি। উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সদরঘাটে লঞ্চ সংঘর্ষে ২ জন, কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন এবং দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে মর্মস্পর্শী ছিল। এসব ঘটনা স্বজনহারা পরিবারগুলোর জীবনে চিরস্থায়ী বিষাদের ছায়া ফেলেছে।
ঈদযাত্রায় এমন ভয়াবহ প্রাণহানি রোধে করণীয় কী— জানতে চাইলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দুর্ঘটনা কমিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। তার মতে, রোড ডিভাইডার না থাকা, ফিটনেস যাচাইয়ে প্রযুক্তির অভাব এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। উন্নত বিশ্বের মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করলেই দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পথে পথে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কঠোর আইন প্রয়োগ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে ঈদযাত্রার দুর্ঘটনা পুরোপুরি কমানো কঠিন হবে।
রিপোর্টারের নাম 





















