বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, বিএনপি জুলাই সনদের মূল চেতনা অনুযায়ী নয়, বরং নিজেদের মতো করে তা বাস্তবায়ন করতে চায়। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত যেসব প্রস্তাবে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করেছিল, গণভোটে জনগণ সেসব মত খারিজ করে দিয়েছে।
একটি সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও গণভোটের রায় কেন অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত ৮ থেকে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিএনপি যে ভিন্নমত দিয়েছিল, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তার মতে, বিএনপির ভিন্নমতগুলোই স্বৈরাচার উৎপাদনের হাতিয়ার এবং সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গণভোটের রায়কে সর্বোচ্চ জনমতের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, সরকারদলীয় নেতাদের সংবিধান, সাংবিধানিক আইন ও রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে আরও বেশি পড়াশোনা প্রয়োজন এবং রাষ্ট্র পরিচালনা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ক্ষমতার প্রশ্নে তাদের ‘গভীর বোঝাপড়ার ঘাটতি’ রয়েছে। মোহাম্মদ শিশির মনির সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থান নেওয়া কাম্য নয়, এতে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকট তৈরি হতে পারে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণভোট জনগণের সার্বভৌমত্বের বাস্তব প্রয়োগ।
প্রধান অতিথি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে চাটুকার পরিবেষ্টিত থাকার বিষয়ে ইঙ্গিত দেন।
রিপোর্টারের নাম 
























