ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার প্রশ্নে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি শপথ অনুষ্ঠানে জামায়াত ও তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যরা সংসদ সদস্য পদের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি’র সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। অন্যদিকে, বিএনপি নেতারা কেবল সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার কমিটির দ্বিতীয় শপথপত্রটি গ্রহণে সাফ অস্বীকৃতি জানান।
সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি যুক্তি ও বিতর্ক চলছে। সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে ১৭ সদস্যের একটি ‘সংশোধন কমিটি’ গঠন করেছে। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, এই কমিটিতে সরকারি দলের ১২ জন এবং বিরোধী দল থেকে ৫ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই প্রস্তাবের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি জানান, তাদের ধারণাগত ভিন্নতা রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে দলীয় আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ‘জুলাই সনদ’ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে তারা সরকারকে কোনো ছাড় দিতে নারাজ। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অনড় অবস্থানের বিষয়ে বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, দুই পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে লক্ষ্য অর্জনে আগ্রহী, তবে শেষ পর্যন্ত কোন পথটি ফলপ্রসূ হবে তা বলা কঠিন। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের সুন্দর কথাগুলো বাস্তবায়িত হওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখ্য, গত জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হওয়া সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে এখন নতুন করে জাতীয় ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে সংস্কার নাকি সংশোধন— শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটবে বাংলাদেশ, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।
রিপোর্টারের নাম 























