ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

মাদক ও অনলাইন গেমের আসক্তি: কিশোর মনে এক ভয়াবহ মায়ার জগত

বর্তমান সময়ে মাদক ও অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি কিশোর-কিশোরীদের মাঝে এক গভীর সংকটের সৃষ্টি করছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটি মূলত বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ও ‘অভাবের মানসিকতা’ থেকে মুক্তির একটি সাময়িক ও কাল্পনিক প্রচেষ্টা। জীবনের রূঢ় বাস্তবতা বা সংগ্রামকে এড়িয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল এক জগতে মগ্ন থাকার নেশাই তরুণদের এই পথে ধাবিত করছে। যখন কিশোর-কিশোরীরা তাদের নেতিবাচক আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা মাদক বা ডিজিটাল গেমের মাঝে নিজেদের সাময়িকভাবে শক্তিশালী ও সফল হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করে।

আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ওপর জিপিএ-৫ কিংবা নিরাপদ কর্মসংস্থানের যে প্রচণ্ড মানসিক চাপ দেওয়া হয়, তা তাদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই কঠোর জীবন পরিকল্পনা থেকে সৃষ্ট উদ্বেগ থেকে বাঁচতেই অনেকে কৃত্রিম ও নিয়ন্ত্রিত এক জগতে আশ্রয় খুঁজে নেয়। এই আসক্তি মূলত বাস্তব জীবনের নিয়মকানুন এবং আবেগ দমনের একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। মূলত কঠিন বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কেবল সুন্দর কাল্পনিক দিকটিতে মগ্ন থাকার চেষ্টাই এই আসক্তির মূল কারণ।

এই সংকট থেকে উত্তরণে জীবনকে একটি চ্যালেঞ্জিং খেলার মতো দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি সহ্য করার ক্ষমতা বা ‘বোরডম ট্রেনিং’ প্রদান করা জরুরি। এর ফলে তারা কোনও কৃত্রিম উদ্দীপনা ছাড়াই জীবনের অনিশ্চয়তা ও কষ্টকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে শিখবে। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষাই পারে তরুণ প্রজন্মকে এই ভয়াবহ মায়ার জগত থেকে রক্ষা করতে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা: ৬ মাসের মধ্যে ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির নির্দেশ

মাদক ও অনলাইন গেমের আসক্তি: কিশোর মনে এক ভয়াবহ মায়ার জগত

আপডেট সময় : ১১:২৮:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বর্তমান সময়ে মাদক ও অনলাইন গেমের প্রতি আসক্তি কিশোর-কিশোরীদের মাঝে এক গভীর সংকটের সৃষ্টি করছে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এটি মূলত বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতি ও ‘অভাবের মানসিকতা’ থেকে মুক্তির একটি সাময়িক ও কাল্পনিক প্রচেষ্টা। জীবনের রূঢ় বাস্তবতা বা সংগ্রামকে এড়িয়ে সুন্দর ও উজ্জ্বল এক জগতে মগ্ন থাকার নেশাই তরুণদের এই পথে ধাবিত করছে। যখন কিশোর-কিশোরীরা তাদের নেতিবাচক আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা মাদক বা ডিজিটাল গেমের মাঝে নিজেদের সাময়িকভাবে শক্তিশালী ও সফল হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করে।

আমাদের প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ওপর জিপিএ-৫ কিংবা নিরাপদ কর্মসংস্থানের যে প্রচণ্ড মানসিক চাপ দেওয়া হয়, তা তাদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এই কঠোর জীবন পরিকল্পনা থেকে সৃষ্ট উদ্বেগ থেকে বাঁচতেই অনেকে কৃত্রিম ও নিয়ন্ত্রিত এক জগতে আশ্রয় খুঁজে নেয়। এই আসক্তি মূলত বাস্তব জীবনের নিয়মকানুন এবং আবেগ দমনের একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাজ করে। মূলত কঠিন বাস্তবতাকে অস্বীকার করে কেবল সুন্দর কাল্পনিক দিকটিতে মগ্ন থাকার চেষ্টাই এই আসক্তির মূল কারণ।

এই সংকট থেকে উত্তরণে জীবনকে একটি চ্যালেঞ্জিং খেলার মতো দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি সহ্য করার ক্ষমতা বা ‘বোরডম ট্রেনিং’ প্রদান করা জরুরি। এর ফলে তারা কোনও কৃত্রিম উদ্দীপনা ছাড়াই জীবনের অনিশ্চয়তা ও কষ্টকে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে শিখবে। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষাই পারে তরুণ প্রজন্মকে এই ভয়াবহ মায়ার জগত থেকে রক্ষা করতে।