ইসলামের প্রাথমিক যুগে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর সামরিক নেতৃত্ব ছিল এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত। বিশেষ করে শাম (সিরিয়া) বিজয়ের প্রেক্ষাপটে তাঁর গৃহীত বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কৌশল আধুনিক সমরবিদদেরও বিস্মিত করে। ফ্রেড ডোনার ও হিউ কেনেডির মতো ঐতিহাসিকদের মতে, এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত বিস্তার এবং শত্রু পক্ষের গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করা। একটিমাত্র বড় বাহিনীর পরিবর্তে চারটি ভিন্ন ভিন্ন বাহিনী ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ শুরু করায় বাইজেন্টাইনদের পক্ষে মুসলিমদের মূল লক্ষ্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে শাম অঞ্চলের বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হতে হয়েছিল, যা তাদের শক্তিকে দুর্বল করে দেয়।
আবু বকর (রা.)-এর কৌশল ছিল বাইজেন্টাইনদের শক্তিশালী শহর-কেন্দ্রিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া। তিনি প্রথমে গ্রাম ও মরু সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলো দখলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। চারটি বাহিনীর পৃথক পৃথক প্রবেশ বাইজেন্টাইনদের পারস্পরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। সেনাপতিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে তিনি তাদের নিজ নিজ অঞ্চলের বিজয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও জুড়ে দেন: কোনো একটি বাহিনী বিপদে পড়লে অন্য সকল বাহিনীকে অবশ্যই তার সাহায্যে এগিয়ে যেতে হবে। এটি ছিল ইতিহাসের এক বিরল ‘ডিসেন্ট্রালাইজড কমান্ড’ বা বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড ব্যবস্থা।
মদিনা থেকে চারটি বাহিনী জুরফ নামক স্থান থেকে একে একে শাম অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে ইয়াজিদ ইবনে আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে একটি বাহিনী রওনা হয়, তার পরদিন শুরাহবিলের বাহিনী, এরপর আবু উবাইদা এবং সবশেষে আমর ইবনুল আসের বাহিনী যাত্রা করে। এই বাহিনীগুলো মূলত হেজাজ থেকে উত্তর দিকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে অগ্রসর হতে থাকে। ইয়াজিদ ও শুরাহবিল তাবুকের মূল রুট ধরে এগিয়ে যান, অন্যদিকে আমর ইবনুল আসের গন্তব্য ছিল ভিন্ন পথে।
রিপোর্টারের নাম 
























