বাংলাদেশে তথাকথিত ‘মব কালচার’ বা গণ-পিটুনি সংস্কৃতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধের মতো কর্মকাণ্ডও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বক্তব্য দেন। এর আগে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে বলেন, বিগত সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং হেফাজতে নির্যাতনের মতো ঘটনার পর সম্প্রতি ‘মব কালচার’ বা গণ-পিটুনির সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ২৫০ থেকে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ গণ-পিটুনিতে নিহত হয়েছেন। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তার কাছে এই মুহূর্তে নেই। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো গণ-পিটুনির ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, সব ঘটনাকে ‘মব’ বা গণ-পিটুনি হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়, কারণ এর সংজ্ঞাও ভিন্ন। তিনি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় হামলা, একুশে ফেব্রুয়ারিতে সদস্যের ওপর হামলা বা উত্তরার দোকানপাট বন্ধের ঘটনাকে ‘মব’ হিসেবে সাধারণীকরণ করার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কিছু ঘটনা সংগঠিত অপরাধের অংশ, যার বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত চলমান। তবে তিনি পুনরায় আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশে কোনোভাবেই ‘মব কালচার’ বা গণ-পিটুনি সংস্কৃতি আর প্রশ্রয় পাবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, কোনো দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধের মতো প্রবণতা, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দেখা গিয়েছিল, তা আর সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেকোনো দাবি জানানো যেতে পারে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে, সেমিনার বা জনসমাবেশও করা সম্ভব। কিন্তু সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের পথ থেকে সরে আসতে হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























