ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

ছয় দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছয় দিনের জাপান সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন। সোমবার তিনি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব কার্যালয়, ইউনূস সেন্টারে যোগ দেন।

তাঁর এই জাপান সফর ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি টোকিওতে ‘হারমোনি বাই ডিজাইন: এশিয়া ডায়লগ’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন, যা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছিল। এই অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চুয়ান লিকপাইসহ এশীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিশিষ্ট নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জাপান সফরে তিনি প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি আকি আবে এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

ড. ইউনূস ‘নেক্সট জেনারেশন এশিয়া পিসবিল্ডিং’ ফোরামে একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগকে শান্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান।

এছাড়াও, জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ‘শূন্য-খরচে অভিবাসন’ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।

গত ২৬শে মার্চ তিনি জাপানের অ্যানিমেশন, মাঙ্গা, গেমিং এবং ডিজিটাল শিক্ষা খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি এবং সামাজিক ব্যবসার সমন্বয়ে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

একইসঙ্গে, তিনি জিইএমএস-নেট উদ্যোগের অধীনে নৈতিক অভিবাসন বিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস সামাজিক ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর তিনি ইউনূস গ্লোবাল ফোরাম ২০২৬-এর জন্য ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) গড়ার উপর একটি বক্তব্য প্রদান করেন।

গত ২৭শে মার্চ ড. ইউনূস ইবারাকি প্রিফেকচারের সাকাই শহর পরিদর্শন করেন, যেখানে মেয়র মাসাহিরো হাসিমোতো তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে তিনি ‘থ্রি জিরো স্মার্ট সিটি’ ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি বান্ডো টারো কো. লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন এবং তাদের সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিকারী ব্যবসায়িক মডেল পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরকালে জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা তাঁর সঙ্গে একটি নৈশভোজে অংশ নেন এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

২৭শে মার্চ টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনারেও তিনি বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ও অনলাইন গেমের আসক্তি: কিশোর মনে এক ভয়াবহ মায়ার জগত

ছয় দিনের জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট সময় : ০৬:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছয় দিনের জাপান সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন। সোমবার তিনি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব কার্যালয়, ইউনূস সেন্টারে যোগ দেন।

তাঁর এই জাপান সফর ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি টোকিওতে ‘হারমোনি বাই ডিজাইন: এশিয়া ডায়লগ’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন, যা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছিল। এই অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চুয়ান লিকপাইসহ এশীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বিশিষ্ট নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জাপান সফরে তিনি প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি আকি আবে এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

ড. ইউনূস ‘নেক্সট জেনারেশন এশিয়া পিসবিল্ডিং’ ফোরামে একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগকে শান্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান।

এছাড়াও, জাপানের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ‘শূন্য-খরচে অভিবাসন’ প্রকল্পের আওতায় নিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেন।

গত ২৬শে মার্চ তিনি জাপানের অ্যানিমেশন, মাঙ্গা, গেমিং এবং ডিজিটাল শিক্ষা খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি এবং সামাজিক ব্যবসার সমন্বয়ে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

একইসঙ্গে, তিনি জিইএমএস-নেট উদ্যোগের অধীনে নৈতিক অভিবাসন বিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক প্রাণবন্ত অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস সামাজিক ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর তিনি ইউনূস গ্লোবাল ফোরাম ২০২৬-এর জন্য ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) গড়ার উপর একটি বক্তব্য প্রদান করেন।

গত ২৭শে মার্চ ড. ইউনূস ইবারাকি প্রিফেকচারের সাকাই শহর পরিদর্শন করেন, যেখানে মেয়র মাসাহিরো হাসিমোতো তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে তিনি ‘থ্রি জিরো স্মার্ট সিটি’ ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি বান্ডো টারো কো. লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন এবং তাদের সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিকারী ব্যবসায়িক মডেল পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরকালে জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা তাঁর সঙ্গে একটি নৈশভোজে অংশ নেন এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

২৭শে মার্চ টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনারেও তিনি বক্তব্য রাখেন।