ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানিগুলোর বৈধতা তদন্তের নির্দেশ সরকারের

দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত তিনটি বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি এবং তাদের গঠিত ‘কনসোর্টিয়ামের বৈধতা’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এই বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সামিট, মেটাকোর ও সিডিনেট নামের এই তিনটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, বেসরকারি পর্যায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদা আলাদা সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে যে ‘কনসোর্টিয়াম’ গঠন করেছে, তার জন্য মন্ত্রণালয় বা বিটিআরসি’র কোনো পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এছাড়াও, গঠিত কনসোর্টিয়ামটি সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স এবং সরকারি গাইডলাইনের শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন করছে কিনা, তাও তদন্তের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

বিটিআরসি থেকে পাঠানো একটি চিঠির প্রেক্ষিতে সরকার এই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল খাতে সরকারি একচ্ছত্র আধিপত্য (মনোপলি) ভাঙতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করে বিটিআরসি। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিডিনেট কমিউনিকেশনস এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেড।

এদের মধ্যে সামিট ও সিডিনেট লাইসেন্স পায় ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকম লাইসেন্স পায় ১৪ সেপ্টেম্বর। এই তিন কোম্পানি মিলে পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্যাবল সিস্টেম’ নামে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের সাথে ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা দেশের ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেটের চাহিদা মেটাতে এবং ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে।

এই খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে লাইসেন্সধারী এই কোম্পানিগুলো নির্ধারিত শর্ত মেনে চলছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে চায় সরকার। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অনিয়ম বা শর্তভঙ্গ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক ও অনলাইন গেমের আসক্তি: কিশোর মনে এক ভয়াবহ মায়ার জগত

সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানিগুলোর বৈধতা তদন্তের নির্দেশ সরকারের

আপডেট সময় : ০৫:১৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত তিনটি বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি এবং তাদের গঠিত ‘কনসোর্টিয়ামের বৈধতা’ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এই বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সামিট, মেটাকোর ও সিডিনেট নামের এই তিনটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, বেসরকারি পর্যায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আলাদা আলাদা সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের মধ্যে যে ‘কনসোর্টিয়াম’ গঠন করেছে, তার জন্য মন্ত্রণালয় বা বিটিআরসি’র কোনো পূর্বানুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এছাড়াও, গঠিত কনসোর্টিয়ামটি সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স এবং সরকারি গাইডলাইনের শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন করছে কিনা, তাও তদন্তের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।

বিটিআরসি থেকে পাঠানো একটি চিঠির প্রেক্ষিতে সরকার এই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল খাতে সরকারি একচ্ছত্র আধিপত্য (মনোপলি) ভাঙতে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করে বিটিআরসি। লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিডিনেট কমিউনিকেশনস এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেড।

এদের মধ্যে সামিট ও সিডিনেট লাইসেন্স পায় ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকম লাইসেন্স পায় ১৪ সেপ্টেম্বর। এই তিন কোম্পানি মিলে পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্যাবল সিস্টেম’ নামে একটি কনসোর্টিয়াম গঠন করে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের সাথে ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা দেশের ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেটের চাহিদা মেটাতে এবং ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করবে।

এই খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে লাইসেন্সধারী এই কোম্পানিগুলো নির্ধারিত শর্ত মেনে চলছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে চায় সরকার। তদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অনিয়ম বা শর্তভঙ্গ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।