দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার করুণ দশা এবং এর ফলে সৃষ্ট ধারাবাহিক দুর্ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, পদ্মা নদীতে সাম্প্রতিক বাস ডুবির মতো ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যর্থতারই প্রতিফলন।
বৃহস্পতিবার পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নানা উন্নয়নের দাবি সত্ত্বেও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পেরিয়ে আসার পরও দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো প্রাগৈতিহাসিক যুগের মতো ভঙ্গুর ও দুর্ঘটনাপ্রবণ রয়ে গেছে। আধুনিক বিশ্বে এমন ঘন ঘন দুর্ঘটনা অন্য কোথাও দেখা যায় না। বিগত ৫৫ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের প্রত্যেককেই এই ব্যর্থতার দায় নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে দৌলতদিয়া ঘাটের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সহ আসন্ন ঈদে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
চরমোনাই পীর আরও বলেন, অতীতের সকল সরকারের বাজেটের একটি বড় অংশ যোগাযোগ খাতে ব্যয় হলেও, পদে পদে দুর্নীতির কারণে এই খাত আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। তিনি নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণযোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং সকল প্রকার সিন্ডিকেটবাজিকে উপেক্ষা করে গাড়ির ফিটনেস, চালকের লাইসেন্স সহ সকল স্তরে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই দুর্ঘটনাগুলো নিছক দুর্ঘটনা নয়, এগুলো পদ্ধতিগত গণহত্যার শামিল।
বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্মমহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, জিএম রুহুল আমীন, মুফতি মানসুর আহমেদ সাকি সহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























