ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পদ্মা সেতু সংলগ্ন শিবচরের পদ্মার পাড় এবং নদীশাসন বেড়িবাঁধ এলাকা পরিণত হয়েছে হাজারো মানুষের মিলনমেলায়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
বছরের বেশিরভাগ সময় কর্মব্যস্ততায় কাটানোর পর ঈদের ছুটিতে মানুষ প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা স্বস্তির খোঁজে ছুটে আসে। সেই সুযোগ করে দিয়েছে শিবচর উপজেলার কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত পদ্মা নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ এলাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। খোলা আকাশ, নির্মল বাতাস আর বিস্তীর্ণ পদ্মা নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এখানে। ঈদের আমেজে পুরো এলাকাজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নৌকা ও ট্রলার ভ্রমণের সুযোগ। অনেকেই নৌকা ভাড়া করে নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ আবার পদ্মার চরে যাচ্ছেন। এছাড়া নদীর পাড়জুড়ে স্থানীয়দের অস্থায়ী দোকান এবং ছোটখাটো ঈদ মেলাও জমে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জালাল মিয়া জানান, ঈদের ছুটিতে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ এখানে ভিড় করেন। প্রায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ এলাকা দুপুরের পর থেকেই মানুষের পদচারণায় সরগরম হয়ে ওঠে এবং রাত পর্যন্ত সেই ভিড় অব্যাহত থাকে।
শুধু শিবচর নয়, জাজিরা, ভাঙ্গাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন।
ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী রাকিব মাদবর বলেন, “পদ্মার পাড়ে খোলা পরিবেশে সময় কাটাতে দারুণ লাগে। বিশেষ করে ঈদের সময় এখানে আসার আলাদা আনন্দ রয়েছে। নদীর ঢেউ, নির্মল বাতাস ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর থেকেই এই এলাকা পর্যটকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন কাওড়াকান্দি ঘাটের নদীশাসন বেড়িবাঁধ শুধু ভাঙনরোধের অবকাঠামো নয়, বরং ঈদের আনন্দকে ঘিরে মানুষের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে—যেখানে প্রকৃতি আর উৎসব একাকার হয়ে যায়।
রিপোর্টারের নাম 

























