ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশ সুপারসহ আহত ৩৫, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

পাবনার ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক দল বিএনপির দুটি বিবদমান গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অগ্নিসংযোগ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে শহরজুড়ে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শহরের রেলগেট এলাকা থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। সাময়িকভাবে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপ ও পিন্টু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, যুবদল নেতা নুরে আলম মোস্তফা শ্যামল, লিটন, জাকারিয়া, আলমগীর, নাজমুল, নাসির, চঞ্চল, নান্টু, সেন্টু, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলামসহ হাবিব গ্রুপের অন্তত ২০-২৫ জন। অপরদিকে পিন্টু গ্রুপের মনোয়ার, রাজিব, অন্তর, কবির, পলাশ, আক্তার, শরিফ, শিহাব, ফজলু, জুয়েলসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত নুরে আলম শ্যামলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে ঈদের চাঁদরাতে পিন্টু গ্রুপের কর্মী আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে।

সোমবার সকালে পিন্টু গ্রুপ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে। এর পাল্টা হিসেবে হাবিব গ্রুপও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে দুই পক্ষ রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এক পক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাতকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্ধর্ষ চুরি, ১১টি সিলিং ফ্যান লুট

পাবনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশ সুপারসহ আহত ৩৫, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আপডেট সময় : ০৭:১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে রাজনৈতিক দল বিএনপির দুটি বিবদমান গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। সংঘর্ষ চলাকালে অগ্নিসংযোগ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে শহরজুড়ে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শহরের রেলগেট এলাকা থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত এই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো শহরে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। সাময়িকভাবে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপ ও পিন্টু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জেরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল বের করলে রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, যুবদল নেতা নুরে আলম মোস্তফা শ্যামল, লিটন, জাকারিয়া, আলমগীর, নাজমুল, নাসির, চঞ্চল, নান্টু, সেন্টু, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলামসহ হাবিব গ্রুপের অন্তত ২০-২৫ জন। অপরদিকে পিন্টু গ্রুপের মনোয়ার, রাজিব, অন্তর, কবির, পলাশ, আক্তার, শরিফ, শিহাব, ফজলু, জুয়েলসহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত নুরে আলম শ্যামলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগে ঈদের চাঁদরাতে পিন্টু গ্রুপের কর্মী আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তোলে।

সোমবার সকালে পিন্টু গ্রুপ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে। এর পাল্টা হিসেবে হাবিব গ্রুপও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে দুই পক্ষ রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এক পক্ষ অপর পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।