ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

অস্তিত্বের সংকটে তৃণমূল: মমতার শরণাপন্ন পুরনো কংগ্রেস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মধ্যে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা লোকসভা, রাজ্যসভা এমনকি বিধানসভাতেও স্পষ্ট। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ সরাসরি শাসক জোট এনডিএকে (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজ্যসভাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুস্মিতা দেব। তিনি কেবল রাজ্যসভাই ছাড়েননি, দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের দিনই তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা তার বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে।

সংসদের পাশাপাশি বিধানসভাতেও ভাঙনের মুখে তৃণমূল। বিধানসভায় দলের ৬৪ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন ঋতব্রত। এর ফলে পরিষদীয় দলেও দলের শক্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সংসদীয় এবং পরিষদীয়—দুই জায়গাতেই ধাক্কা খেয়ে দলে চূড়ান্ত ডামাডোল সৃষ্টি হয়েছে।

এই চরম দুর্দিনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোনো দল কংগ্রেসকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে। দিল্লিতে শুরু হয়েছে মরিয়া রাজনৈতিক তৎপরতা। গত সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মঙ্গলবার তিনি ১০ জনপথে গিয়ে সোনিয়ার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। ঠিক তার পরদিনই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসরে নামেন। বুধবার সকালে তিনি সোনিয়ার বাসভবনে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই নেতার মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

জানা গেছে, মতপার্থক্য ভুলে বিজেপি বিরোধিতায় কীভাবে একজোট হওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। পাশাপাশি বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের এই ব্যাপক ভাঙন নিয়েও কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ২৮ বছর আগে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন মমতা। এখন দলের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তাকে সেই কংগ্রেসেরই শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। অস্তিত্ব রক্ষার এই মরিয়া চেষ্টা রাজ্যের আগামী দিনের রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধস: চার মাসে আয় কমেছে ১১ শতাংশ

অস্তিত্বের সংকটে তৃণমূল: মমতার শরণাপন্ন পুরনো কংগ্রেস

আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মধ্যে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা লোকসভা, রাজ্যসভা এমনকি বিধানসভাতেও স্পষ্ট। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ সরাসরি শাসক জোট এনডিএকে (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজ্যসভাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল। বর্ষীয়ান নেতা সুখেন্দু শেখর রায়ের পর এবার সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুস্মিতা দেব। তিনি কেবল রাজ্যসভাই ছাড়েননি, দলের প্রাথমিক সদস্যপদও ত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের দিনই তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা তার বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে।

সংসদের পাশাপাশি বিধানসভাতেও ভাঙনের মুখে তৃণমূল। বিধানসভায় দলের ৬৪ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন ঋতব্রত। এর ফলে পরিষদীয় দলেও দলের শক্তি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। সংসদীয় এবং পরিষদীয়—দুই জায়গাতেই ধাক্কা খেয়ে দলে চূড়ান্ত ডামাডোল সৃষ্টি হয়েছে।

এই চরম দুর্দিনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পুরোনো দল কংগ্রেসকেই আঁকড়ে ধরতে চাইছে। দিল্লিতে শুরু হয়েছে মরিয়া রাজনৈতিক তৎপরতা। গত সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর মঙ্গলবার তিনি ১০ জনপথে গিয়ে সোনিয়ার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন। ঠিক তার পরদিনই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসরে নামেন। বুধবার সকালে তিনি সোনিয়ার বাসভবনে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই নেতার মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

জানা গেছে, মতপার্থক্য ভুলে বিজেপি বিরোধিতায় কীভাবে একজোট হওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। পাশাপাশি বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের এই ব্যাপক ভাঙন নিয়েও কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। ২৮ বছর আগে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন মমতা। এখন দলের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তাকে সেই কংগ্রেসেরই শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। অস্তিত্ব রক্ষার এই মরিয়া চেষ্টা রাজ্যের আগামী দিনের রাজনীতিতে কোন নতুন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।