ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

মহিমান্বিত রজনী শবে কদর: ফজিলত ও ইবাদতের সঠিক নিয়ম

ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় রাত হলো শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা বা ভাগ্য। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এই মহিমান্বিত রজনী তালাশ করার জন্য ইসলামি শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং অতীতের গুনাহ মাফের আশায় মুমিন মুসলমানরা এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করেন।

শবে কদরের নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এই রাতে নফল নামাজ দুই রাকাত করে যত বেশি পড়া যায়, ততই সওয়াব। দীর্ঘ কিরাত ও বিনম্র মনোযোগের সাথে নামাজ আদায় করা উত্তম। নামাজের পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, তওবা-ইস্তেগফার এবং কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এই রাত কাটানো যায়। প্রচলিত কিছু সুরা নির্দিষ্ট করে পড়ার যে ধারণা সমাজে রয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই; বরং যেকোনো সুরা দিয়েই আন্তরিকতার সাথে নামাজ আদায় করা সম্ভব।

এই পবিত্র রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) যখন জানতে চেয়েছিলেন এই রাতে কী দোয়া পড়া উচিত, তখন নবীজি (সা.) তাকে শিখিয়েছিলেন— ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’। যার অর্থ হলো, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতে এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নদী ও খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

মহিমান্বিত রজনী শবে কদর: ফজিলত ও ইবাদতের সঠিক নিয়ম

আপডেট সময় : ০৭:০৬:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় রাত হলো শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা বা ভাগ্য। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এই মহিমান্বিত রজনী তালাশ করার জন্য ইসলামি শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং অতীতের গুনাহ মাফের আশায় মুমিন মুসলমানরা এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করেন।

শবে কদরের নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। এই রাতে নফল নামাজ দুই রাকাত করে যত বেশি পড়া যায়, ততই সওয়াব। দীর্ঘ কিরাত ও বিনম্র মনোযোগের সাথে নামাজ আদায় করা উত্তম। নামাজের পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, তওবা-ইস্তেগফার এবং কবর জিয়ারতের মাধ্যমে এই রাত কাটানো যায়। প্রচলিত কিছু সুরা নির্দিষ্ট করে পড়ার যে ধারণা সমাজে রয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই; বরং যেকোনো সুরা দিয়েই আন্তরিকতার সাথে নামাজ আদায় করা সম্ভব।

এই পবিত্র রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) যখন জানতে চেয়েছিলেন এই রাতে কী দোয়া পড়া উচিত, তখন নবীজি (সা.) তাকে শিখিয়েছিলেন— ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’। যার অর্থ হলো, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন। শেষ দশকের প্রতিটি বেজোড় রাতে এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।