ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ঈদ আনন্দ সর্বজনীন করতে ফিতরা: তাৎপর্য ও বিধান

পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর জন্য জাকাতুল ফিতর বা ফিতরার এক মহৎ বিধান রেখেছেন। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য দুটি: প্রথমত, ঈদের দিনে কোনো দরিদ্র ব্যক্তি যেন বঞ্চিত না হয়, বরং সচ্ছলদের পাশাপাশি তিনিও যেন ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন। এতে ঈদের খুশি সর্বজনীন রূপ লাভ করে। দ্বিতীয়ত, রোজাদারের রোজা পালনে যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত গুনাহ হয়ে থাকে, ফিতরার মাধ্যমে তা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা যায়।

ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার দেওয়া অসংখ্য নিয়ামতের শুকরিয়াও আদায় করা হয়। তিনি বান্দাকে পুরো এক মাস রোজা, তারাবিহ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকাসহ নানা নেক আমল করার সুযোগ দিয়েছেন, যার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ফিতরা প্রদান করা হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জাকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন অনর্থক ও অশ্লীল কথাবার্তা দ্বারা সিয়ামের যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়, তা থেকে পবিত্র করা এবং মিসকিনদের খাদ্য প্রদানের জন্য। ঈদের নামাজের আগে আদায় করলে তা জাকাতুল ফিতর হিসেবে গণ্য হবে, আর ঈদের নামাজের পর আদায় করলে তা সাধারণ দানের মতো একটি দান হবে।

ফিতরা মুসলিম নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার পক্ষে আদায় করা ওয়াজিব। হজরত ইবন উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) রমজান মাসে স্বাধীন, গোলাম, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সব মুসলিমের ওপর এক সা খেজুর বা এক সা যব জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন। পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে জাকাতুল ফিতর দেওয়া ওয়াজিব নয়, তবে কেউ যদি আদায় করে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। হজরত ওসমান (রা.) পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতেন।

ফিতরা নিজের ও স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের পোষ্যদের পক্ষ থেকে আদায় করা আবশ্যক। তবে তারা সামর্থ্যবান হলে নিজেদের ফিতরা নিজেরা আদায় করা উত্তম। সংশ্লিষ্ট দিনে জাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারীর জন্য ফিতরা ওয়াজিব। ঈদের দিন ও রাতের খরচ নির্বাহের পর অতিরিক্ত ফিতরাযোগ্য সম্পদ থাকলে তার জন্য ফিতরা আদায় করা সুন্নত। ফিতরা হিসেবে সাধারণত এক সা পরিমাণ খাদ্যশস্য বা তার সমমূল্যের অর্থ প্রদান করতে হয়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আমরা জাকাতুল ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্য দ্বারা, তখন আমাদের খাদ্য ছিল বার্লি, কিশমিশ, পনির ও খেজুর। ইরাকি মাপে এক সা সাড়ে তিন কেজি এবং হিজাজি মাপে আড়াই কেজি। কেবল গমের ক্ষেত্রে অর্ধ সা পরিমাণ দেওয়ার অবকাশ রয়েছে, যা সবার জন্য সর্বনিম্ন পরিমাণ হিসেবে প্রযোজ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে চরম উত্তেজনা: দুই সপ্তাহে ১৭ জাহাজে হামলা, নিহত ২ ভারতীয়

ঈদ আনন্দ সর্বজনীন করতে ফিতরা: তাৎপর্য ও বিধান

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে মহান আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহর জন্য জাকাতুল ফিতর বা ফিতরার এক মহৎ বিধান রেখেছেন। এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য দুটি: প্রথমত, ঈদের দিনে কোনো দরিদ্র ব্যক্তি যেন বঞ্চিত না হয়, বরং সচ্ছলদের পাশাপাশি তিনিও যেন ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন। এতে ঈদের খুশি সর্বজনীন রূপ লাভ করে। দ্বিতীয়ত, রোজাদারের রোজা পালনে যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত গুনাহ হয়ে থাকে, ফিতরার মাধ্যমে তা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা যায়।

ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার দেওয়া অসংখ্য নিয়ামতের শুকরিয়াও আদায় করা হয়। তিনি বান্দাকে পুরো এক মাস রোজা, তারাবিহ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকাসহ নানা নেক আমল করার সুযোগ দিয়েছেন, যার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ফিতরা প্রদান করা হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জাকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন অনর্থক ও অশ্লীল কথাবার্তা দ্বারা সিয়ামের যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়, তা থেকে পবিত্র করা এবং মিসকিনদের খাদ্য প্রদানের জন্য। ঈদের নামাজের আগে আদায় করলে তা জাকাতুল ফিতর হিসেবে গণ্য হবে, আর ঈদের নামাজের পর আদায় করলে তা সাধারণ দানের মতো একটি দান হবে।

ফিতরা মুসলিম নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার পক্ষে আদায় করা ওয়াজিব। হজরত ইবন উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) রমজান মাসে স্বাধীন, গোলাম, নারী-পুরুষ, ছোট-বড় সব মুসলিমের ওপর এক সা খেজুর বা এক সা যব জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন। পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে জাকাতুল ফিতর দেওয়া ওয়াজিব নয়, তবে কেউ যদি আদায় করে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। হজরত ওসমান (রা.) পেটের বাচ্চার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতেন।

ফিতরা নিজের ও স্ত্রী-সন্তানসহ নিজের পোষ্যদের পক্ষ থেকে আদায় করা আবশ্যক। তবে তারা সামর্থ্যবান হলে নিজেদের ফিতরা নিজেরা আদায় করা উত্তম। সংশ্লিষ্ট দিনে জাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারীর জন্য ফিতরা ওয়াজিব। ঈদের দিন ও রাতের খরচ নির্বাহের পর অতিরিক্ত ফিতরাযোগ্য সম্পদ থাকলে তার জন্য ফিতরা আদায় করা সুন্নত। ফিতরা হিসেবে সাধারণত এক সা পরিমাণ খাদ্যশস্য বা তার সমমূল্যের অর্থ প্রদান করতে হয়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আমরা জাকাতুল ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্য দ্বারা, তখন আমাদের খাদ্য ছিল বার্লি, কিশমিশ, পনির ও খেজুর। ইরাকি মাপে এক সা সাড়ে তিন কেজি এবং হিজাজি মাপে আড়াই কেজি। কেবল গমের ক্ষেত্রে অর্ধ সা পরিমাণ দেওয়ার অবকাশ রয়েছে, যা সবার জন্য সর্বনিম্ন পরিমাণ হিসেবে প্রযোজ্য।