ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

রমজান: আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতির অনন্য মাস

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে সাওম বা রোজা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পুরো রমজান মাসজুড়ে রোজা পালনের পাশাপাশি নানা বন্দেগিতে লিপ্ত থাকেন। বর্তমানে পবিত্র রমজানের শেষ দশক অতিক্রম করছে, যা মুসলমানদের জীবনে নানা শিক্ষা ও গুণাবলি অর্জনের এক মোক্ষম সময়।

রোজা মুসলিম সমাজে সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সৃষ্টি করে। এই পবিত্র মাসে মুসলমানরা আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও নম্র স্বভাবের মতো মানবিক গুণাবলি অর্জন করেন। মানুষকে সংযত হতে, খোদাভীরুতা অর্জন করতে, পরোপকারিতায় উদ্বুদ্ধ হতে এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জীবিত করতে পবিত্র রমজান মাসের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

খোদাভীতি অর্জন (তাকওয়া)

মহান আল্লাহ তায়ালার ভয় তথা খোদাভীতি (তাকওয়া) অর্জনের মোক্ষম সময় হলো পবিত্র রমজান মাস। মহান আল্লাহর বাণী– ‘তোমাদের উপর সাওম ফরজ করা হয়েছে, যেমনি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা (তাকওয়া) খোদাভীতি অর্জন করতে পারো।’ সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার কারণে রোজাদারের মধ্যে খোদাভীতি সৃষ্টি হয়।

রোজাদার ব্যক্তি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার, যাবতীয় অশ্লীল কাজ, মিথ্যা কথা প্রভৃতি খারাপ ও নিন্দনীয় অপকর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। তাই সিয়াম সাধনা বা রোজাকে বলা হয় খোদাভীরুতা লাভের সোপান। যদি কেউ আন্তরিকতার সাথে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সঠিকভাবে রোজা পালন করেন, তাহলে তাঁর মধ্যে অবশ্যই খোদাভীতি আসবে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, আর রোজা এর ব্যতিক্রম। রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ মহান আল্লাহ অন্যান্য বিধানের মধ্যে রোজাকে নির্দিষ্ট করায় এ মাসে সবচেয়ে বেশি খোদাভীতি অর্জিত হয়ে থাকে।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন (উখুওয়াত)

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন (উখুওয়াত) মুসলিম উম্মাহর অন্যতম নিদর্শন। ইসলামের প্রতিটি বিধানেই এ বন্ধন দৃঢ় হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বরকতময় রমজান মাসে মুসলমানদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ইমানের পরে মুমিনদের সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেওয়া হয়েছে ঐক্যবদ্ধ থাকবার জন্য। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ রমজান মাসে মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবির নামাজ মসজিদে জামায়াতের সাথে আদায় করে থাকেন, যা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন নাগরিকদের প্রবল অনীহা: নতুন জরিপ

রমজান: আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতির অনন্য মাস

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে সাওম বা রোজা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পুরো রমজান মাসজুড়ে রোজা পালনের পাশাপাশি নানা বন্দেগিতে লিপ্ত থাকেন। বর্তমানে পবিত্র রমজানের শেষ দশক অতিক্রম করছে, যা মুসলমানদের জীবনে নানা শিক্ষা ও গুণাবলি অর্জনের এক মোক্ষম সময়।

রোজা মুসলিম সমাজে সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সৃষ্টি করে। এই পবিত্র মাসে মুসলমানরা আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও নম্র স্বভাবের মতো মানবিক গুণাবলি অর্জন করেন। মানুষকে সংযত হতে, খোদাভীরুতা অর্জন করতে, পরোপকারিতায় উদ্বুদ্ধ হতে এবং আধ্যাত্মিক চেতনায় উজ্জীবিত করতে পবিত্র রমজান মাসের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

খোদাভীতি অর্জন (তাকওয়া)

মহান আল্লাহ তায়ালার ভয় তথা খোদাভীতি (তাকওয়া) অর্জনের মোক্ষম সময় হলো পবিত্র রমজান মাস। মহান আল্লাহর বাণী– ‘তোমাদের উপর সাওম ফরজ করা হয়েছে, যেমনি ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা (তাকওয়া) খোদাভীতি অর্জন করতে পারো।’ সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার কারণে রোজাদারের মধ্যে খোদাভীতি সৃষ্টি হয়।

রোজাদার ব্যক্তি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার, যাবতীয় অশ্লীল কাজ, মিথ্যা কথা প্রভৃতি খারাপ ও নিন্দনীয় অপকর্ম থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। তাই সিয়াম সাধনা বা রোজাকে বলা হয় খোদাভীরুতা লাভের সোপান। যদি কেউ আন্তরিকতার সাথে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সঠিকভাবে রোজা পালন করেন, তাহলে তাঁর মধ্যে অবশ্যই খোদাভীতি আসবে। হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, আর রোজা এর ব্যতিক্রম। রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ মহান আল্লাহ অন্যান্য বিধানের মধ্যে রোজাকে নির্দিষ্ট করায় এ মাসে সবচেয়ে বেশি খোদাভীতি অর্জিত হয়ে থাকে।

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন (উখুওয়াত)

ভ্রাতৃত্বের বন্ধন (উখুওয়াত) মুসলিম উম্মাহর অন্যতম নিদর্শন। ইসলামের প্রতিটি বিধানেই এ বন্ধন দৃঢ় হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বরকতময় রমজান মাসে মুসলমানদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ইমানের পরে মুমিনদের সবচেয়ে বেশি তাগিদ দেওয়া হয়েছে ঐক্যবদ্ধ থাকবার জন্য। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে ঐক্যবদ্ধভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ রমজান মাসে মুসলমানরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবির নামাজ মসজিদে জামায়াতের সাথে আদায় করে থাকেন, যা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।