ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

অড্রে হেপবার্ন থেকে জোহরান মামদানি: নিউইয়র্কে নেহরুর প্রতিধ্বনি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

১৯৬১ সালের কোনও একদিন ম্যানহাটন অ্যাপার্টমেন্টে, কালো গাউন আর লম্বা সিগারেট হোল্ডার হাতে নিয়ে বসেছিলেন হলিউডের স্বর্ণযুগের নায়িকা অড্রে হেপবার্ন। সেই ক্লাসিক দৃশ্যে, ‘ব্রেকফাস্ট এট টিফনি’ ছবির ‘হলি গোলাইটলি’ চরিত্রে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি জীবিত কারও সঙ্গে প্রেম করতে পারতাম, তবে সে হোসে নয়… নেহরু হতে পারে।’

কে জানত, সেই সংলাপ ৬৪ বছর পর আবারও নতুন আবহে হাজির হবেন নেহরু। আর সেটাও একই শহরে, নিউইয়র্কে।

কাট টু ২০২৫— আরেকটি নভেম্বরের রাত, আরেকটি নিউইয়র্কের মুহূর্ত। যখন সদ্য নির্বাচিত নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার বিজয় ভাষণে উদ্ধৃত করলেন জওহরলাল নেহরুকে।

তার ভাষ্যে, ‘আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি ভাবছি জওহরলাল নেহরুর সেই কথাগুলো— ইতিহাসে এমন মুহূর্ত বিরল, যখন আমরা পুরনো থেকে নতুনের পথে যাত্রা করি; যখন এক যুগের অবসান ঘটে, আর দীর্ঘদিন দমিত জাতির আত্মা প্রকাশের সুযোগ পায়।’ মামদানি আরও বলেন, ‘আজ রাতে আমরা পুরনো থেকে নতুনে পা রেখেছি। আমরা এমন এক রাজনীতি শেষ করছি যা কেবল অল্প কয়েকজনের স্বার্থে কাজ করত। আজ নিউইয়র্কের মানুষ আশার জয় ঘোষণা করেছে।’ 

মামদানির এই ভাষণ, নিউইয়র্কজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয় ‘আশা বেঁচে আছে’–এর এক নতুন বার্তা হিসেবে। সঙ্গে ভেসে ওঠেন নেহরু।

জোহরানের এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ‘ব্রেকফাস্ট এট টিফনি’র সেই পুরনো দৃশ্য ও সংলাপ।

লেখক নেয়াজ ফারুকি টুইটারে ভিডিওটি পোস্ট করেন ক্যাপশনসহ। ভিডিওতে দেখা যায়, অড্রে হেপবার্নের চরিত্র ‘হলি গোলাইটলি’ দিবাস্বপ্নে মগ্ন হয়ে বলে— ‘নেহরু, সম্ভবত।’

দর্শকরা মুহূর্তেই এই সংলাপকে নতুন আলোয় দেখলেন—এক যুগের নায়িকা, অন্য যুগের রাজনীতিক, আর তাদের মাঝে একটাই নাম—নেহরু।

১৯৬১ সালের ‘ব্রেকফাস্ট এট টিফনি’ ছিলো নিউইয়র্কের প্রতি প্রেম, স্বাধীনতা ও আত্ম-অনুসন্ধানের—যেখানে জীবনের মানে খোঁজেন এক তরুণী নারী।

২০২৫ সালের নিউইয়র্কেও, জোহরান মামদানির প্রচারণায় প্রতিধ্বনিত সেই একই স্পিরিট—আশা, সমতা ও সমাজের শক্তিতে গড়া এক নতুন ভোরের স্বপ্ন।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে অবৈধ দখল উচ্ছেদ: যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সিটি কর্পোরেশনের অভিযান

অড্রে হেপবার্ন থেকে জোহরান মামদানি: নিউইয়র্কে নেহরুর প্রতিধ্বনি

আপডেট সময় : ০৭:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

১৯৬১ সালের কোনও একদিন ম্যানহাটন অ্যাপার্টমেন্টে, কালো গাউন আর লম্বা সিগারেট হোল্ডার হাতে নিয়ে বসেছিলেন হলিউডের স্বর্ণযুগের নায়িকা অড্রে হেপবার্ন। সেই ক্লাসিক দৃশ্যে, ‘ব্রেকফাস্ট এট টিফনি’ ছবির ‘হলি গোলাইটলি’ চরিত্রে তিনি বলেছিলেন, ‘যদি জীবিত কারও সঙ্গে প্রেম করতে পারতাম, তবে সে হোসে নয়… নেহরু হতে পারে।’

কে জানত, সেই সংলাপ ৬৪ বছর পর আবারও নতুন আবহে হাজির হবেন নেহরু। আর সেটাও একই শহরে, নিউইয়র্কে।

কাট টু ২০২৫— আরেকটি নভেম্বরের রাত, আরেকটি নিউইয়র্কের মুহূর্ত। যখন সদ্য নির্বাচিত নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তার বিজয় ভাষণে উদ্ধৃত করলেন জওহরলাল নেহরুকে।

তার ভাষ্যে, ‘আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি ভাবছি জওহরলাল নেহরুর সেই কথাগুলো— ইতিহাসে এমন মুহূর্ত বিরল, যখন আমরা পুরনো থেকে নতুনের পথে যাত্রা করি; যখন এক যুগের অবসান ঘটে, আর দীর্ঘদিন দমিত জাতির আত্মা প্রকাশের সুযোগ পায়।’ মামদানি আরও বলেন, ‘আজ রাতে আমরা পুরনো থেকে নতুনে পা রেখেছি। আমরা এমন এক রাজনীতি শেষ করছি যা কেবল অল্প কয়েকজনের স্বার্থে কাজ করত। আজ নিউইয়র্কের মানুষ আশার জয় ঘোষণা করেছে।’ 

মামদানির এই ভাষণ, নিউইয়র্কজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয় ‘আশা বেঁচে আছে’–এর এক নতুন বার্তা হিসেবে। সঙ্গে ভেসে ওঠেন নেহরু।

জোহরানের এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে ‘ব্রেকফাস্ট এট টিফনি’র সেই পুরনো দৃশ্য ও সংলাপ।

লেখক নেয়াজ ফারুকি টুইটারে ভিডিওটি পোস্ট করেন ক্যাপশনসহ। ভিডিওতে দেখা যায়, অড্রে হেপবার্নের চরিত্র ‘হলি গোলাইটলি’ দিবাস্বপ্নে মগ্ন হয়ে বলে— ‘নেহরু, সম্ভবত।’

দর্শকরা মুহূর্তেই এই সংলাপকে নতুন আলোয় দেখলেন—এক যুগের নায়িকা, অন্য যুগের রাজনীতিক, আর তাদের মাঝে একটাই নাম—নেহরু।

১৯৬১ সালের ‘ব্রেকফাস্ট এট টিফনি’ ছিলো নিউইয়র্কের প্রতি প্রেম, স্বাধীনতা ও আত্ম-অনুসন্ধানের—যেখানে জীবনের মানে খোঁজেন এক তরুণী নারী।

২০২৫ সালের নিউইয়র্কেও, জোহরান মামদানির প্রচারণায় প্রতিধ্বনিত সেই একই স্পিরিট—আশা, সমতা ও সমাজের শক্তিতে গড়া এক নতুন ভোরের স্বপ্ন।

সূত্র: এনডিটিভি