ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

‘বই পোকা’: সামাজিক অবক্ষয় ও সাহিত্যের মেলবন্ধনে দর্শকদের মন জয়

কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত নাটকগুলোর ভিড়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে ‘বই পোকা’। গতানুগতিক হাস্যরসাত্মক গল্পের বাইরে গিয়ে সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং হৃদয়স্পর্শী প্রেমের এক চমৎকার মিশ্রণে নির্মিত এই নাটকটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আকবর হায়দার মুন্নার গল্প ভাবনা ও লিমন আহমেদের চিত্রনাট্যে তপু খান পরিচালিত এই নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাশার ও সাদনিমা বিনতে নোমান। পর্দায় তাদের সাবলীল রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। গত ২ জুন ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি মুক্তি পাওয়ার মাত্র চার দিনের মধ্যে প্রায় ৯ লক্ষাধিক দর্শক এটি দেখেছেন। মন্তব্যের ঘরে দর্শকরা গল্প, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

নির্মাতা তপু খান জানিয়েছেন, নাটকটিতে বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মানুষের অতিরিক্ত নির্ভরতা ও আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব যেমন দেখানো হয়েছে, তেমনি নতুন প্রজন্মকে বই ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হওয়ার একটি বার্তাও রয়েছে এতে। নাটকটি নির্মাণের সময় থেকেই আমি বিশ্বাস করেছিলাম গল্পটি দর্শকদের ভালো লাগবে। মুক্তির পর যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, তা সত্যিই আনন্দের।’

গল্পকার আকবর হায়দার মুন্নার মতে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে মানুষের এক ধরনের অতিরিক্ত মোহ তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে বই পড়ার অভ্যাসও কমে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা থেকেই ‘বই পোকা’র ভাবনার জন্ম। তিনি বলেন, ‘গল্পটি লিখেছিলাম মানুষকে একটু ভাবানোর জন্য। দর্শক সেটি গ্রহণ করেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত খায়রুল বাশারও। তার ভাষ্য, ‘বই পোকা’ একটি ব্যতিক্রমী গল্পের নাটক। এর সংলাপ ও আবেগ দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারে। এমন একটি কাজের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত।’ অন্যদিকে সাদনিমা বিনতে নোমান জানান, ‘বই পোকা’তে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে। নাটকের চরিত্রটিও তার ভীষণ পছন্দের। এছাড়াও নাটকে অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, মুনীরা ইউসুফ মেমী, আব্দুল্লাহ রানা ও রোজি সিদ্দিকী। একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা গেছে তারিক আনাম খানকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

‘বই পোকা’: সামাজিক অবক্ষয় ও সাহিত্যের মেলবন্ধনে দর্শকদের মন জয়

আপডেট সময় : ০৮:২৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত নাটকগুলোর ভিড়ে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে ‘বই পোকা’। গতানুগতিক হাস্যরসাত্মক গল্পের বাইরে গিয়ে সামাজিক বাস্তবতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং হৃদয়স্পর্শী প্রেমের এক চমৎকার মিশ্রণে নির্মিত এই নাটকটি ইতোমধ্যেই দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আকবর হায়দার মুন্নার গল্প ভাবনা ও লিমন আহমেদের চিত্রনাট্যে তপু খান পরিচালিত এই নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন খায়রুল বাশার ও সাদনিমা বিনতে নোমান। পর্দায় তাদের সাবলীল রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। গত ২ জুন ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি মুক্তি পাওয়ার মাত্র চার দিনের মধ্যে প্রায় ৯ লক্ষাধিক দর্শক এটি দেখেছেন। মন্তব্যের ঘরে দর্শকরা গল্প, নির্মাণশৈলী এবং অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

নির্মাতা তপু খান জানিয়েছেন, নাটকটিতে বর্তমান সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মানুষের অতিরিক্ত নির্ভরতা ও আসক্তির নেতিবাচক প্রভাব যেমন দেখানো হয়েছে, তেমনি নতুন প্রজন্মকে বই ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হওয়ার একটি বার্তাও রয়েছে এতে। নাটকটি নির্মাণের সময় থেকেই আমি বিশ্বাস করেছিলাম গল্পটি দর্শকদের ভালো লাগবে। মুক্তির পর যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, তা সত্যিই আনন্দের।’

গল্পকার আকবর হায়দার মুন্নার মতে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে মানুষের এক ধরনের অতিরিক্ত মোহ তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে বই পড়ার অভ্যাসও কমে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা থেকেই ‘বই পোকা’র ভাবনার জন্ম। তিনি বলেন, ‘গল্পটি লিখেছিলাম মানুষকে একটু ভাবানোর জন্য। দর্শক সেটি গ্রহণ করেছেন, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

নাটকটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত খায়রুল বাশারও। তার ভাষ্য, ‘বই পোকা’ একটি ব্যতিক্রমী গল্পের নাটক। এর সংলাপ ও আবেগ দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারে। এমন একটি কাজের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত।’ অন্যদিকে সাদনিমা বিনতে নোমান জানান, ‘বই পোকা’তে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার কাছে বিশেষ হয়ে থাকবে। নাটকের চরিত্রটিও তার ভীষণ পছন্দের। এছাড়াও নাটকে অভিনয় করেছেন আজিজুল হাকিম, মুনীরা ইউসুফ মেমী, আব্দুল্লাহ রানা ও রোজি সিদ্দিকী। একটি বিশেষ চরিত্রে দেখা গেছে তারিক আনাম খানকে।