ঈদে মুক্তির পর থেকেই দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’। কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতাকে উপজীব্য করে নির্মিত এই ছবিটি ইতোমধ্যে অনেক তারকারও মুগ্ধতা কেড়েছে। সোমবার অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া ছবিটি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, “সব গান সবার জন্য নয়, সব চলচ্চিত্র সবার জন্য নয়। ‘বনলতা সেন’ আমার মতো অনেকের যেমন ভালো লাগবে, অনেকের লাগবে না। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় থাকবে ছবিটি।”
দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় স্পর্শিয়া জানান, তিনি গত পরশু ‘বনলতা সেন’ দেখেছেন। নামভূমিকায় অভিনয় করা নাবিলাকে নিয়ে তিনি লেখেন, ‘পরিচালক এবং আমাদের কল্পনা ও কৌতূহলের বনলতার সঙ্গে নাবিলা, পুরোপুরি মানিয়েছে। হোয়াট আ ক্ল্যাসিক বিউটি শি ইজ!’ অভিনেতা সোহেল মণ্ডলের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি জীবনানন্দের আরেকটি বিখ্যাত কবিতার পঙ্ক্তি—‘মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জ্যোৎস্নার প্রান্তরে’—উদ্ধৃত করেন। স্পর্শিয়ার ভাষ্যমতে, সোহেল মণ্ডল বাংলাদেশের সম্পদ। বিশেষ করে তার শেষের দৃশ্যগুলোর মাঝে, কেমন যেন নিজেরই কৈশোরের মন খুঁজে পাওয়া যায়।
অভিনেত্রী স্পর্শিয়া ছবির নির্মাতা, সব অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবে নয়, একজন দর্শক হিসেবেই তিনি নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন। সবশেষে জীবনানন্দের ভূমিকায় অভিনয় করা খায়রুল বাশারকে নিয়ে স্পর্শিয়া লেখেন, ‘এবার আসি জীবনানন্দের কাছে। তার কবিতার মাঝে কত কতবার নিজেকে হারিয়ে ফেলে জীবনকে পাওয়া, নিজের আবেগ-অনুভূতি আবিষ্কার করা। এই যুগে জীবনানন্দ দাশকে ধারণ করে, আমাদের কাছে কেউ যদি উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে সেটা শুধুই খায়রুল বাশার। বাশারের কণ্ঠ, চোখের চাহনি, ঠোঁটের কোনায় ব্যালেন্সড হাসি, ব্যক্তিজীবনে সাহিত্যচর্চা, তার সঙ্গে স্বচ্ছ এবং আন্তরিক মন—সব মিলিয়ে বরাবরই সে একজন দুর্দান্ত পারফর্মার। আশা রাখি তাকে আরো ব্যবহার করা হবে।’ বর্তমানে ‘বনলতা সেন’ দেশের চারটি মাল্টিপ্লেক্সে—স্টার সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার সিনেমাস, লায়ন সিনেমাস ও কে স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























