ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইসির জন্য স্বতন্ত্র ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ গঠন: অধ্যাদেশ জারি করলেন রাষ্ট্রপতি

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস নামে একটি স্বতন্ত্র সার্ভিস গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত রবিবার (৫ অক্টোবর) রাতে এ সংক্রান্ত একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছেন। এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।

পৃথক সার্ভিসের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আইনটির ধারা ৩-এর উপধারা (৪)-এর পরিবর্তে নতুন উপধারা সংযুক্ত করে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য নির্বাচন কমিশন সার্ভিস নামে একটি সার্ভিস থাকবে। তবে, এই পৃথক সার্ভিসটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের আইনটি বহাল থাকবে।

  • নিয়োগের ভবিষ্যৎ: নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, সার্ভিসটি পৃথক হলেও এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া পিএসসির অধীনে হবে নাকি কমিশনের অধীনে, তা পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত হবে। বিচার বিভাগের মতো আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কমিশন কাজ করছে।
  • ইতিবাচক পদক্ষেপ: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আবদুল আলিম এটিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে ইসির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

সচিবালয়ের দায়িত্বে এনআইডি ও অন্যান্য সংস্কার

সংশোধিত অধ্যাদেশে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বগুলোও নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মূল পরিবর্তন হলো—এনআইডি সংক্রান্ত দায়িত্ব আবারও ইসির অধীনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এখন থেকে নিম্নলিখিত দায়িত্বগুলো পালনে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা দেবে:

  • এনআইডি ও ভোটার তালিকা: জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত ও সংরক্ষণ এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংরক্ষণ।
  • নির্বাচন পরিচালনা: রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন (উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, ইউপি) সহ সব ধরনের নির্বাচন এবং গণভোট পরিচালনা।
  • অন্যান্য দায়িত্ব: সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও প্রকাশ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, প্রতীক বরাদ্দ, দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, নির্বাচনী মালামাল মুদ্রণ ও সরবরাহ, নির্বাচনের ফলাফল সংগ্রহ ও প্রকাশ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং নির্বাচনী আইন পর্যালোচনা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

ইসির জন্য স্বতন্ত্র ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস’ গঠন: অধ্যাদেশ জারি করলেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৩:১৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য ‘নির্বাচন কমিশন সার্ভিস নামে একটি স্বতন্ত্র সার্ভিস গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত রবিবার (৫ অক্টোবর) রাতে এ সংক্রান্ত একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছেন। এর আগে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।

পৃথক সার্ভিসের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, আইনটির ধারা ৩-এর উপধারা (৪)-এর পরিবর্তে নতুন উপধারা সংযুক্ত করে বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য নির্বাচন কমিশন সার্ভিস নামে একটি সার্ভিস থাকবে। তবে, এই পৃথক সার্ভিসটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন না হওয়া পর্যন্ত পূর্বের আইনটি বহাল থাকবে।

  • নিয়োগের ভবিষ্যৎ: নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, সার্ভিসটি পৃথক হলেও এখন নিয়োগ প্রক্রিয়া পিএসসির অধীনে হবে নাকি কমিশনের অধীনে, তা পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত হবে। বিচার বিভাগের মতো আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কমিশন কাজ করছে।
  • ইতিবাচক পদক্ষেপ: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আবদুল আলিম এটিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারলে ইসির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

সচিবালয়ের দায়িত্বে এনআইডি ও অন্যান্য সংস্কার

সংশোধিত অধ্যাদেশে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বগুলোও নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মূল পরিবর্তন হলো—এনআইডি সংক্রান্ত দায়িত্ব আবারও ইসির অধীনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এখন থেকে নিম্নলিখিত দায়িত্বগুলো পালনে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা দেবে:

  • এনআইডি ও ভোটার তালিকা: জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুত ও সংরক্ষণ এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সংরক্ষণ।
  • নির্বাচন পরিচালনা: রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন (উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, ইউপি) সহ সব ধরনের নির্বাচন এবং গণভোট পরিচালনা।
  • অন্যান্য দায়িত্ব: সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও প্রকাশ, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন, প্রতীক বরাদ্দ, দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ, নির্বাচনী মালামাল মুদ্রণ ও সরবরাহ, নির্বাচনের ফলাফল সংগ্রহ ও প্রকাশ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং নির্বাচনী আইন পর্যালোচনা।