ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত কিংবদন্তি বশির আহমেদ, শিষ্যা কনকচাঁপার আবেগঘন স্মৃতিচারণ

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় সংস্কৃতি ও সংগীতের অনন্য কারিগর হিসেবে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ।

বরেণ্য এই শিল্পীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির খবরে সংগীতাঙ্গনসহ ভক্তমহলে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রিয় ওস্তাদের এই প্রাপ্তিতে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বশির আহমেদের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “ওস্তাদজী, আপনার এই সম্মাননা সুরের উত্তরসূরি হিসেবে আমার হৃদয়ের গহীনে এক গভীর তৃপ্তি এনে দিয়েছে। আপনি আজ আমাদের মাঝে নেই, জানি না এই খবর আপনার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না; তবে আপনার এই অর্জন আমাদের গর্বিত করেছে।” এই বার্তায় তিনি প্রয়াত বশির আহমেদ ও তার সহধর্মিণীর পারলৌকিক শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়াও প্রার্থনা করেন।

কনকচাঁপার সেই পোস্টে সাধারণ ভক্ত ও অনুরাগীরাও তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এই গুণী শিল্পীর জীবদ্দশায় এমন সম্মাননা পাওয়া উচিত ছিল। ভক্তদের মতে, বশির আহমেদ ছিলেন এক সুরস্রষ্টা, যার কণ্ঠের মায়ায় কয়েক প্রজন্ম আচ্ছন্ন হয়ে আছে। দেরিতে হলেও এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা। অনেকে আবার নীতিনির্ধারকদের অনুরোধ জানিয়েছেন যেন অন্যান্য গুণী শিল্পীদের জীবদ্দশাতেই যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়।

সংগীতের এই মহীরুহ ১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন এবং পরবর্তীতে উপমহাদেশের কিংবদন্তি ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন তিনি। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় স্থায়ীভাবে চলে আসার আগেই উর্দু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন বশির আহমেদ। ‘যব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’র মতো গান তাকে উপমহাদেশজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়।

বাংলাদেশে আসার পর তিনি অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গান উপহার দিয়েছেন। তার দরাজ কণ্ঠের ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘যারে যাবি যদি যা’ এবং ‘বন্ধু সেই দেখা কেন শেষ দেখা হলো’র মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০০৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। সুরের এই জাদুকর ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান ইস্যুতে সংলাপের ওপর জোর এরদোয়ানের, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত কিংবদন্তি বশির আহমেদ, শিষ্যা কনকচাঁপার আবেগঘন স্মৃতিচারণ

আপডেট সময় : ০৮:৪৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। এই তালিকায় সংস্কৃতি ও সংগীতের অনন্য কারিগর হিসেবে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ।

বরেণ্য এই শিল্পীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির খবরে সংগীতাঙ্গনসহ ভক্তমহলে আনন্দের জোয়ার বইছে। প্রিয় ওস্তাদের এই প্রাপ্তিতে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বশির আহমেদের একটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “ওস্তাদজী, আপনার এই সম্মাননা সুরের উত্তরসূরি হিসেবে আমার হৃদয়ের গহীনে এক গভীর তৃপ্তি এনে দিয়েছে। আপনি আজ আমাদের মাঝে নেই, জানি না এই খবর আপনার কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না; তবে আপনার এই অর্জন আমাদের গর্বিত করেছে।” এই বার্তায় তিনি প্রয়াত বশির আহমেদ ও তার সহধর্মিণীর পারলৌকিক শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়াও প্রার্থনা করেন।

কনকচাঁপার সেই পোস্টে সাধারণ ভক্ত ও অনুরাগীরাও তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এই গুণী শিল্পীর জীবদ্দশায় এমন সম্মাননা পাওয়া উচিত ছিল। ভক্তদের মতে, বশির আহমেদ ছিলেন এক সুরস্রষ্টা, যার কণ্ঠের মায়ায় কয়েক প্রজন্ম আচ্ছন্ন হয়ে আছে। দেরিতে হলেও এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা। অনেকে আবার নীতিনির্ধারকদের অনুরোধ জানিয়েছেন যেন অন্যান্য গুণী শিল্পীদের জীবদ্দশাতেই যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়।

সংগীতের এই মহীরুহ ১৯৩৯ সালের ১৯ নভেম্বর কলকাতার খিদিরপুরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রখ্যাত ওস্তাদ বেলায়েত হোসেন এবং পরবর্তীতে উপমহাদেশের কিংবদন্তি ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলী খাঁর কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নেন তিনি। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় স্থায়ীভাবে চলে আসার আগেই উর্দু চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন বশির আহমেদ। ‘যব তোম একেলে হোগে হাম ইয়াদ আয়েঙ্গে’র মতো গান তাকে উপমহাদেশজুড়ে পরিচিতি এনে দেয়।

বাংলাদেশে আসার পর তিনি অসংখ্য কালজয়ী বাংলা গান উপহার দিয়েছেন। তার দরাজ কণ্ঠের ‘অনেক সাধের ময়না আমার’, ‘আমাকে পোড়াতে যদি এত লাগে ভালো’, ‘যারে যাবি যদি যা’ এবং ‘বন্ধু সেই দেখা কেন শেষ দেখা হলো’র মতো গানগুলো আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে অমলিন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ২০০৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। সুরের এই জাদুকর ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।