ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

ইতিহাস বিকৃতি নয়, সত্য প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আমরা: পিলখানা গণহত্যা দিবসে বক্তারা

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় পিলখানা গণহত্যা দিবস ২০০৯ স্মরণে বক্তারা বলেছেন, ইতিহাসকে ভুলে যাওয়ার জন্য নয়, বরং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতেই তারা আজ এখানে সমবেত হয়েছেন। প্যাট্রিয়টস অফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ফোরামের যৌথ আয়োজনে এই সভায় বক্তারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক তাসের মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্যে পিলখানা গণহত্যা মামলার বিচার দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “চির শত্রুদের চিহ্নিত করা আমাদের প্রধান কাজ। তারা আবারও আমাদের সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীকে টার্গেট করতে পারে। দুর্বল বিচার ব্যবস্থার সুযোগে ভিনদেশি শত্রুরা আমাদের আঘাত করতে পারে।”

সভাপতির বক্তব্যে এমদাদ দীপু বলেন, গত সতেরো বছর ধরে পিলখানা গণহত্যায় নিহত শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজখবর কেউ রাখেনি। অনেক শহীদ পরিবার তাদের দুঃখ-কষ্ট কাউকে জানাতে পারেনি। তিনি শহীদ পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রতি পরিবার থেকে একজন সদস্যকে সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এস এম রহমত উল্লাহ বলেন, পিলখানায় গণহত্যার পর গত সতেরো বছর ধরে ভারত বাংলাদেশকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, শেখ হাসিনার পতনের পর একটি নির্দিষ্ট দল বাংলাদেশকে আবারও গোলাম বানানোর চেষ্টা করতে পারে। তিনি ২৪’র জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, “বাংলাদেশ নিয়ে যদি কোনো সরকার বা গোষ্ঠী চোখ রাঙাতে চায়, তাহলে আবারও বিপ্লব হবে এবং বিপ্লবী সরকার গঠিত হবে।”

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ অর্জন করেছি এবং ২৪’র জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতীয় আগ্রাসন থেকে মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার মোহ তাদের সেই স্বপ্নকে বর্তমানেও পূর্ণ হতে দেয়নি।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ ফোরাম আয়োজিত এই সভায় এমদাদ দীপুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট ইমরান আনসারি, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এস এম রহমানতুল্লাহ, লিটন মজুমদার, মো. আলিম, দীপন গাজী, সাংবাদিক এনামুল হক তালুকদার, রিমন ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মানবাধিকার কর্মী জ্যাকব মিল্টন, মো. মেজবাহুল হক, রুকসানা পারভিন, বাংলাদেশ জেএসএফের সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, বিলাল হোসেন, তাসের মাহমুদ, ওভি ইসলাম, মানিশ, লিটন খান, আপ বাংলাদেশ সংগঠনের প্রধান মুখ্য সংগঠক, ইনকিলাব মঞ্চের বুরহানসহ আরও অনেকে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা সত্ত্বেও বাংলাদেশে স্বস্তি, পণ্যবাহী জাহাজসমূহের আগমন

ইতিহাস বিকৃতি নয়, সত্য প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আমরা: পিলখানা গণহত্যা দিবসে বক্তারা

আপডেট সময় : ০৬:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় পিলখানা গণহত্যা দিবস ২০০৯ স্মরণে বক্তারা বলেছেন, ইতিহাসকে ভুলে যাওয়ার জন্য নয়, বরং সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতেই তারা আজ এখানে সমবেত হয়েছেন। প্যাট্রিয়টস অফ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ফোরামের যৌথ আয়োজনে এই সভায় বক্তারা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিশিষ্ট সাংবাদিক তাসের মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্যে পিলখানা গণহত্যা মামলার বিচার দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “চির শত্রুদের চিহ্নিত করা আমাদের প্রধান কাজ। তারা আবারও আমাদের সার্বভৌমত্ব ও সেনাবাহিনীকে টার্গেট করতে পারে। দুর্বল বিচার ব্যবস্থার সুযোগে ভিনদেশি শত্রুরা আমাদের আঘাত করতে পারে।”

সভাপতির বক্তব্যে এমদাদ দীপু বলেন, গত সতেরো বছর ধরে পিলখানা গণহত্যায় নিহত শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজখবর কেউ রাখেনি। অনেক শহীদ পরিবার তাদের দুঃখ-কষ্ট কাউকে জানাতে পারেনি। তিনি শহীদ পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রতি পরিবার থেকে একজন সদস্যকে সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এস এম রহমত উল্লাহ বলেন, পিলখানায় গণহত্যার পর গত সতেরো বছর ধরে ভারত বাংলাদেশকে পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, শেখ হাসিনার পতনের পর একটি নির্দিষ্ট দল বাংলাদেশকে আবারও গোলাম বানানোর চেষ্টা করতে পারে। তিনি ২৪’র জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, “বাংলাদেশ নিয়ে যদি কোনো সরকার বা গোষ্ঠী চোখ রাঙাতে চায়, তাহলে আবারও বিপ্লব হবে এবং বিপ্লবী সরকার গঠিত হবে।”

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ অর্জন করেছি এবং ২৪’র জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতীয় আগ্রাসন থেকে মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার মোহ তাদের সেই স্বপ্নকে বর্তমানেও পূর্ণ হতে দেয়নি।

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ ফোরাম আয়োজিত এই সভায় এমদাদ দীপুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট ইমরান আনসারি, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এস এম রহমানতুল্লাহ, লিটন মজুমদার, মো. আলিম, দীপন গাজী, সাংবাদিক এনামুল হক তালুকদার, রিমন ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মানবাধিকার কর্মী জ্যাকব মিল্টন, মো. মেজবাহুল হক, রুকসানা পারভিন, বাংলাদেশ জেএসএফের সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, বিলাল হোসেন, তাসের মাহমুদ, ওভি ইসলাম, মানিশ, লিটন খান, আপ বাংলাদেশ সংগঠনের প্রধান মুখ্য সংগঠক, ইনকিলাব মঞ্চের বুরহানসহ আরও অনেকে।