পবিত্র রমজান মাস এলেই মিশরের রাজধানী কায়রোর ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। এর মধ্যে প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্যের ধারক আল-মুইজ স্ট্রিট রমজানের রাতে পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়, যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর আধ্যাত্মিকতার এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটে।
ইফতারের পর থেকেই এই ঐতিহাসিক সড়কে নেমে আসে মানুষের ঢল। পরিবার-পরিজন, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রঙিন ফানুসের আলো, মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা এবং ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত দোকানপাট রমজানের আনন্দকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবমুখর এক পরিবেশ, যা মিশরীয় সংস্কৃতির চিরন্তন প্রাণচাঞ্চল্যকে ফুটিয়ে তোলে।
মুইজ স্ট্রিটের দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন মসজিদ ও স্থাপত্যগুলো রাতের আলোয় এক ভিন্ন ঐতিহাসিক মহিমায় উদ্ভাসিত হয়। আল হাকিম মসজিদ, সুলতান কালাওন কমপ্লেক্স এবং আল-ইকমার মসজিদের মতো প্রাচীন ইসলামি স্থাপত্যশৈলীর এই অনবদ্য নিদর্শনগুলো রমজানের রাতে দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
রাত বাড়ার সাথে সাথে রাস্তার পাশের কফি শপ ও খাবারের দোকানগুলোতেও জমে ওঠে প্রাণবন্ত আড্ডা। কেউ মিশরীয় চা-কফির উষ্ণতায় মগ্ন হন, কেউবা ধোঁয়ায় মোড়ানো শিশার (হুক্কা) স্বাদ নেন, আবার অনেকে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি কুনাফার স্বাদে মুগ্ধ হন। দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী সুফি নৃত্য ‘তানুরা’ সহ নানা ধরনের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
রমজানের পবিত্র আবহ, মানুষের আনন্দঘন উপস্থিতি এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বয়ে চলা ইতিহাস—সবকিছু মিলে মুইজ স্ট্রিট যেন কায়রোর রমজান রজনীর এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এখানে প্রতিটি রাত কেবল ঘুরে বেড়ানো নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার নাম।
রিপোর্টারের নাম 
























