মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে এক বিধ্বংসী যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান এবং এর বিপরীতে ইরানের পাল্টা হামলায় পুরো অঞ্চল এখন আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে।
এই যুদ্ধে প্রধান পক্ষগুলো কারা এবং কার অবস্থান কী, তা তুলে ধরা হলো:
প্রধান আক্রমণকারী পক্ষ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের ওপর বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। ইসরায়েল এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন রোরিং লায়ন‘ এবং যুক্তরাষ্ট্র একে ডাকছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি‘ নামে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশটিতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলে ইরানের সমর্থনে হিজবুল্লাহ রকেট ও ড্রোন হামলার পর লেবাননেও বিমান হামলা চালাচ্ছে তেল আবিব। ফলে যুদ্ধ লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরান ও দেশটির মিত্রবাহিনী (প্রতিরোধ অক্ষ)
ইরান এবং তার আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীগুলো সম্মিলিতভাবে এই যুদ্ধের জবাব দিচ্ছে। ইরান এই পাল্টা অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস–৪‘। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে তেহরান। ইতোমধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তারা।উত্তর ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি স্থলবাহিনীও লেবাননের দক্ষিণ অংশে প্রবেশ করেছে। ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও রকেট হামলা জোরদার করেছে তারা ইরানপন্থি ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সংঘাতে অংশ নেওয়ার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস নিন্দা জানালেও ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে কোনও হামলা এখন পর্যন্ত করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ ও মার্কিন ঘাঁটি
ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সেসব দেশ, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। এর ফলে অনেক দেশ সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন, ওমান ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগার এবং রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার খবর পাওয়া গেছে। জর্ডান ও কুয়েত মূলত মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। কাতার ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
বৈশ্বিক পরাশক্তির অবস্থান
যুক্তরাজ্য সাইপ্রাসে থাকা তাদের ঘাঁটিগুলো মার্কিন বাহিনীকে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে, যার ফলে ইরান সাইপ্রাসেও হামলা চালিয়েছে। তবে তারা ইরানে মার্কিন হামলা অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। ফ্রান্স সাইপ্রাসে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। গ্রিস যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে সাইপ্রাসে। জার্মানিও জানিয়েছে, তারা ইরানে হামলায় অংশ নেবে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা সেনাদের প্রতিরক্ষায় সক্রিয় থাকবে। স্পেন নিজেদের ঘাঁটি ইরানে হামলায় ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। রাশিয়া ও চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তবে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে এখনও জড়ায়নি।
রিপোর্টারের নাম 

























