ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

‘তারা’ এজেন্ট: গ্রামীণ নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নের আলোকবর্তিকা

গ্রামীণ জনপদের কাঁচা পথ পেরিয়ে, উঠান বৈঠক কিংবা বাজারের কোলাহলে— সর্বত্রই ব্যাংকিং সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। কাউন্টারের দুই পাশেই এখন নারীর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি, লেনদেনে আস্থা আর চোখে-মুখে স্বস্তির ছাপ। এই অভাবনীয় পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ এজেন্ট, অর্থাৎ নারী উদ্যোক্তারা, যারা এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের স্বত্বাধিকারী।

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্র্যাক ব্যাংক এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকটি কেবল নারীদের ব্যাংকিং সেবায় অংশগ্রহণের সুযোগই বাড়ায়নি, বরং তাদের সরাসরি সেবাদানকারী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নারী এজেন্ট, নারী গ্রাহক: আস্থার মেলবন্ধন

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্র্যাক ব্যাংকের ৯০টি ‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট সক্রিয় রয়েছে। এই আউটলেটগুলো পরিচালনা করছেন ৮১ জন নিবেদিতপ্রাণ নারী উদ্যোক্তা, যারা নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এই নারী এজেন্টদের সহায়তা করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন প্রায় ৯০০ জন নারী এজেন্ট ব্যাংকিং ফিল্ড অফিসার। এই কর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবার প্রয়োজনীয়তা পৌঁছে দিচ্ছেন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলস্বরূপ, ‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৬৮৫টি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার সিংহভাগই প্রথমবারের মতো ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসা গ্রাহক। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যা কেবল একটি আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যানই নয়, বরং নারীর সক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

স্বাচ্ছন্দ্যের ঠিকানা: নারীরা নারীদের সাথেই

গ্রামাঞ্চলের অনেক নারীই এখনো পুরুষ ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে সংকোচবোধ করেন। এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে অনেক সময় তারা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ এজেন্টরা এই প্রতিবন্ধকতাকে দূর করেছেন। তাদের আউটলেটগুলোতে আসা গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই নারী, যারা নারী ব্যাংকারদের কাছ থেকে সেবা নিতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এভাবেই ‘তারা’ এজেন্টরা নারীদের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

উঠান বৈঠক থেকে ব্যাংক হিসাব: আর্থিক সাক্ষরতার প্রসার

নারী এজেন্ট এবং ফিল্ড অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের সঞ্চয়ের গুরুত্ব, অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স আনার সুবিধা, ডিপিএস ও এফডিআর খোলার মতো বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছেন। উঠান বৈঠকের মতো আয়োজনগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করছে। এছাড়াও, আউটলেটগুলোতে আয়োজিত আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক সেশনগুলোও ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং দেশব্যাপী ৭২টি আর্থিক সাক্ষরতা সেশন পরিচালনা করেছে, যেখানে ৫,৩১১ জন ব্যক্তি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন।

নারীবান্ধব পণ্য: স্বপ্ন বাস্তবায়নের সহযোগী

‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোতে নারী গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন পণ্য ও সেবা চালু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘তারা’ প্রবাসী পরিবার সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ‘তারা’ সেভিংস ডিপোজিট, ‘তারা’ প্রথম অ্যাকাউন্ট, ‘তারা’ ট্রিপল বেনিফিটস সেভিংস অ্যাকাউন্ট। পাশাপাশি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে ‘তারা’ উদ্যোক্তা এসএমই লোন। এই পণ্যগুলো কেবল ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের জন্য নয়, বরং নারীদের জীবনকে সহজ করতে এবং তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। ‘তারা’ এজেন্টরা এই সেবাগুলো সরাসরি নারীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

ঋণ মানেই উৎপাদন: অর্থনৈতিক স্বাধীনতার নতুন পথ

‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রদত্ত ঋণের একটি বড় অংশই আয়বর্ধক খাতে ব্যয় হচ্ছে। এর ফলে, অনেক নারী গরু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, ছোট দোকান পরিচালনা বা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কেউ কেউ ঘরে তৈরি খাবার বিক্রি করেও আয় করছেন। এই বিনিয়োগ নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়াচ্ছে, যা তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ভূমিকা রাখতে সাহায্য করছে। এতে নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে এবং সামাজিক অবস্থানও উন্নত হচ্ছে। ঋণ প্রদানের পর ‘তারা’ এজেন্ট ও ফিল্ড অফিসাররা নিয়মিত গ্রাহকদের খোঁজখবর রাখায় ঋণের সঠিক ব্যবহার ও সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি স্থাপন করছে।

নেতৃত্বেও নারী: আত্মবিশ্বাসের উত্থান

‘তারা’ এজেন্টদের মাধ্যমে কেবল গ্রাহক পর্যায়েই নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং নেতৃত্বেও নারীরা এগিয়ে আসছেন। ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ এজেন্ট কেবল একজন ব্যাংকের প্রতিনিধিই নন, তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় রোল মডেল, যার ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিজিওনের বাঞ্ছারামপুর আউটলেটের ‘তারা’ এজেন্ট নাজমা আক্তার বলেন, “এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি, তা আমার নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে। আমাকে দেখে অনেক নারী এখন ব্যাংকিং সেবায় আসতে আগ্রহী হচ্ছেন। আমি আশা করি, দেশের অন্যান্য এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাও ব্র্যাক ব্যাংকের মতো নারী নেতৃত্ব উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

এভাবেই ব্র্যাক ব্যাংক প্রমাণ করছে যে, একজন নারী কেবল সেবার গ্রহীতা নন, তিনি একজন সেবাদাতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীও হতে পারেন।

বদলে যাওয়ার গল্প: অর্থনীতি ও সমাজে নারীর প্রভাব

প্রান্তিক অঞ্চলের অনেক নারী, যারা একসময় ব্যাংকিং সেবাকে এড়িয়ে চলতেন, ‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আজ নিজেরাই কাউন্টারের ওপারে বসে অন্য নারীদের ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছেন। এই বদলে যাওয়া গল্পগুলোই বলে দেয়— সঠিক উদ্যোগ, বিশ্বাস এবং সুযোগ পেলে নারীরাই পারেন অর্থনীতি ও সমাজকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে। ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এই নারীদের এই উত্তরণের যাত্রায় অবিচল সঙ্গী হিসেবে পাশে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনার আমলের মতো সাবেক উপদেষ্টা আদিলুরকে বিমানবন্দরে হয়রানি

‘তারা’ এজেন্ট: গ্রামীণ নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়নের আলোকবর্তিকা

আপডেট সময় : ০২:৪০:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

গ্রামীণ জনপদের কাঁচা পথ পেরিয়ে, উঠান বৈঠক কিংবা বাজারের কোলাহলে— সর্বত্রই ব্যাংকিং সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। কাউন্টারের দুই পাশেই এখন নারীর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি, লেনদেনে আস্থা আর চোখে-মুখে স্বস্তির ছাপ। এই অভাবনীয় পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ এজেন্ট, অর্থাৎ নারী উদ্যোক্তারা, যারা এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের স্বত্বাধিকারী।

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো ব্যাংকিং সেবার আওতার বাইরে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্র্যাক ব্যাংক এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকটি কেবল নারীদের ব্যাংকিং সেবায় অংশগ্রহণের সুযোগই বাড়ায়নি, বরং তাদের সরাসরি সেবাদানকারী হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।

নারী এজেন্ট, নারী গ্রাহক: আস্থার মেলবন্ধন

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্র্যাক ব্যাংকের ৯০টি ‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট সক্রিয় রয়েছে। এই আউটলেটগুলো পরিচালনা করছেন ৮১ জন নিবেদিতপ্রাণ নারী উদ্যোক্তা, যারা নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এই নারী এজেন্টদের সহায়তা করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন প্রায় ৯০০ জন নারী এজেন্ট ব্যাংকিং ফিল্ড অফিসার। এই কর্মীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবার প্রয়োজনীয়তা পৌঁছে দিচ্ছেন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলস্বরূপ, ‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৬৮৫টি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, যার সিংহভাগই প্রথমবারের মতো ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসা গ্রাহক। এই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা জমা হয়েছে, যা কেবল একটি আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যানই নয়, বরং নারীর সক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

স্বাচ্ছন্দ্যের ঠিকানা: নারীরা নারীদের সাথেই

গ্রামাঞ্চলের অনেক নারীই এখনো পুরুষ ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে সংকোচবোধ করেন। এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণে অনেক সময় তারা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ এজেন্টরা এই প্রতিবন্ধকতাকে দূর করেছেন। তাদের আউটলেটগুলোতে আসা গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই নারী, যারা নারী ব্যাংকারদের কাছ থেকে সেবা নিতে অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এভাবেই ‘তারা’ এজেন্টরা নারীদের কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

উঠান বৈঠক থেকে ব্যাংক হিসাব: আর্থিক সাক্ষরতার প্রসার

নারী এজেন্ট এবং ফিল্ড অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের সঞ্চয়ের গুরুত্ব, অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়ম, বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স আনার সুবিধা, ডিপিএস ও এফডিআর খোলার মতো বিভিন্ন আর্থিক বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করছেন। উঠান বৈঠকের মতো আয়োজনগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করছে। এছাড়াও, আউটলেটগুলোতে আয়োজিত আর্থিক সাক্ষরতা বিষয়ক সেশনগুলোও ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং দেশব্যাপী ৭২টি আর্থিক সাক্ষরতা সেশন পরিচালনা করেছে, যেখানে ৫,৩১১ জন ব্যক্তি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন।

নারীবান্ধব পণ্য: স্বপ্ন বাস্তবায়নের সহযোগী

‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোতে নারী গ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন পণ্য ও সেবা চালু রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ‘তারা’ প্রবাসী পরিবার সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ‘তারা’ সেভিংস ডিপোজিট, ‘তারা’ প্রথম অ্যাকাউন্ট, ‘তারা’ ট্রিপল বেনিফিটস সেভিংস অ্যাকাউন্ট। পাশাপাশি, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে ‘তারা’ উদ্যোক্তা এসএমই লোন। এই পণ্যগুলো কেবল ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের জন্য নয়, বরং নারীদের জীবনকে সহজ করতে এবং তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। ‘তারা’ এজেন্টরা এই সেবাগুলো সরাসরি নারীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

ঋণ মানেই উৎপাদন: অর্থনৈতিক স্বাধীনতার নতুন পথ

‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রদত্ত ঋণের একটি বড় অংশই আয়বর্ধক খাতে ব্যয় হচ্ছে। এর ফলে, অনেক নারী গরু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, ছোট দোকান পরিচালনা বা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কেউ কেউ ঘরে তৈরি খাবার বিক্রি করেও আয় করছেন। এই বিনিয়োগ নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়াচ্ছে, যা তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ভূমিকা রাখতে সাহায্য করছে। এতে নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে এবং সামাজিক অবস্থানও উন্নত হচ্ছে। ঋণ প্রদানের পর ‘তারা’ এজেন্ট ও ফিল্ড অফিসাররা নিয়মিত গ্রাহকদের খোঁজখবর রাখায় ঋণের সঠিক ব্যবহার ও সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি স্থাপন করছে।

নেতৃত্বেও নারী: আত্মবিশ্বাসের উত্থান

‘তারা’ এজেন্টদের মাধ্যমে কেবল গ্রাহক পর্যায়েই নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে না, বরং নেতৃত্বেও নারীরা এগিয়ে আসছেন। ব্র্যাক ব্যাংকের ‘তারা’ এজেন্ট কেবল একজন ব্যাংকের প্রতিনিধিই নন, তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় রোল মডেল, যার ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিজিওনের বাঞ্ছারামপুর আউটলেটের ‘তারা’ এজেন্ট নাজমা আক্তার বলেন, “এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি, তা আমার নেতৃত্বগুণ বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে। আমাকে দেখে অনেক নারী এখন ব্যাংকিং সেবায় আসতে আগ্রহী হচ্ছেন। আমি আশা করি, দেশের অন্যান্য এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাও ব্র্যাক ব্যাংকের মতো নারী নেতৃত্ব উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”

এভাবেই ব্র্যাক ব্যাংক প্রমাণ করছে যে, একজন নারী কেবল সেবার গ্রহীতা নন, তিনি একজন সেবাদাতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীও হতে পারেন।

বদলে যাওয়ার গল্প: অর্থনীতি ও সমাজে নারীর প্রভাব

প্রান্তিক অঞ্চলের অনেক নারী, যারা একসময় ব্যাংকিং সেবাকে এড়িয়ে চলতেন, ‘তারা’ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আজ নিজেরাই কাউন্টারের ওপারে বসে অন্য নারীদের ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছেন। এই বদলে যাওয়া গল্পগুলোই বলে দেয়— সঠিক উদ্যোগ, বিশ্বাস এবং সুযোগ পেলে নারীরাই পারেন অর্থনীতি ও সমাজকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে। ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এই নারীদের এই উত্তরণের যাত্রায় অবিচল সঙ্গী হিসেবে পাশে আছে।