ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুর মুক্তাদির।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আজ বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় আমরা ভারতের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃড় করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছি। দুদেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নে বিষয়ে আলোচনা করেছি।

​বৈঠকের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে, যার মধ্যে ৯.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি এবং ১.৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি। এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

​বৈঠকে বন্ধ থাকা বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালু করা এবং ল্যান্ড বর্ডারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের সাবরুমে নির্মিত নতুন ল্যান্ড পোর্ট বা বন্দর অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বেনাপোলসহ অন্যান্য স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়েও সাধারণ আলোচনা হয়েছে।

​এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইআরডি (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ইতোমধ্যে জাতিসংঘে আবেদন জানিয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

​মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমোজ প্রণালীতে সম্ভাব্য নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, হরমোজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট। এটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পণ্যের মূল্যের ওপর পড়ে। তবে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান হবে। বর্তমানে আমাদের নিত্যপণ্য বা জ্বালানি আমদানিতে কোনো শঙ্কার কারণ নেই।

​হাইকমিশনারের এই বৈঠককে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে খন্দকার আবদুর মুক্তাদির বলেন, আজকের এই পরিচিতি সভা ও আলোচনা আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা: ইসরাইলি সেনাপ্রধানের বক্তব্য

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৪৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুর মুক্তাদির।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আজ বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় আমরা ভারতের পক্ষ থেকে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃড় করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছি। দুদেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক উন্নয়নে বিষয়ে আলোচনা করেছি।

​বৈঠকের আলোচ্য বিষয় তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং একটি বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। তাদের সঙ্গে আমাদের প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে, যার মধ্যে ৯.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি এবং ১.৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি। এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নিতে আমরা ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও প্রযুক্তির আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছি।

​বৈঠকে বন্ধ থাকা বর্ডার হাটগুলো পুনরায় চালু করা এবং ল্যান্ড বর্ডারগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ভারতের সাবরুমে নির্মিত নতুন ল্যান্ড পোর্ট বা বন্দর অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বেনাপোলসহ অন্যান্য স্থলবন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়েও সাধারণ আলোচনা হয়েছে।

​এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইআরডি (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ইতোমধ্যে জাতিসংঘে আবেদন জানিয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

​মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হরমোজ প্রণালীতে সম্ভাব্য নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, হরমোজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট। এটি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকলে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব পণ্যের মূল্যের ওপর পড়ে। তবে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান হবে। বর্তমানে আমাদের নিত্যপণ্য বা জ্বালানি আমদানিতে কোনো শঙ্কার কারণ নেই।

​হাইকমিশনারের এই বৈঠককে একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে খন্দকার আবদুর মুক্তাদির বলেন, আজকের এই পরিচিতি সভা ও আলোচনা আগামী দিনে দুই দেশের বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।