ঢাকা ০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

পুঁজিবাজারে অনিয়ম ধরলে মিলবে ১০ কোটি টাকা পুরস্কার, সুরক্ষিত থাকবেন তথ্যদাতা

পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্য প্রকাশকারীদের (হুইসেল ব্লোয়ার) আইনগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করবে নতুন এই বিধিমালা। দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি ‘পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা বিধিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে, যা এখন জনমত যাচাইয়ের অপেক্ষায়।

বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো তথ্য প্রকাশকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যদি পুঁজিবাজারে কোনো অর্থদণ্ড বা জরিমানা আদায় হয়, তবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য প্রকাশকারীকে আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননা দিতে পারবে। তবে, এই প্রণোদনার পরিমাণ আদায়কৃত অর্থদণ্ড বা জরিমানার ২৫ শতাংশের বেশি হবে না এবং কোনো অবস্থাতেই তা ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে না। আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননা প্রদানের শর্তাদি, পরিমাণ ও পদ্ধতি সময় সময় আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

বিএসইসির কমিশন সভায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিধিমালাটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য বিএসইসির ওয়েবসাইটে এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। প্রকাশের দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে এই বিধিমালা সম্পর্কে তাদের মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি জানাতে পারবে। জনমতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে বিধিমালাটি কার্যকর হবে।

বিএসইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করাই এই বিধিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য। তথ্য প্রকাশকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের নির্ভয়ে তথ্য প্রদানে উৎসাহিত করা হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। এর ফলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিধিমালায় তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্য প্রকাশকারীর সম্মতি ছাড়া এবং আইনি প্রয়োজন ব্যতীত তার পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। যদি কোনো চাকরিজীবী এই বিধিমালার আওতায় তথ্য প্রকাশ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে পদাবনতি, হয়রানিমূলক বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি, তিরস্কার বা কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এমনকি তথ্য প্রকাশকারীকে কোনো মামলায় সাক্ষী করা যাবে না এবং মামলার কার্যক্রমে এমন কিছু প্রকাশ করা যাবে না, যা তার পরিচয় ফাঁস করে দেয়। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্রেও তার পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর সেকশন ১৯-এর বিধান অনুসরণ করা হবে।

এই বিধিমালার অধীনে ‘তথ্য প্রকাশকারী’ বলতে বিএসইসির নিবন্ধিত কোনো বাজার মধ্যস্থতাকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ইস্যুয়ার, নিবন্ধিত ফান্ড বা স্পেশাল পারপাস ভেহিকেলের (এসপিভি) কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, নিরীক্ষক বা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট ছক (ফরম-১) পূরণ করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে যে, প্রকাশিত তথ্যটি সত্য অথবা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই বিশ্বাস করেন যে, প্রকাশিত তথ্যটি সত্য হতে পারে এবং তথ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে সত্যতা যাচাই করা সমীচীন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বাদে ভিন্নতা ও মুখরোচক ইফতার: ঘরেই তৈরি করুন সহজ তিন পদ

পুঁজিবাজারে অনিয়ম ধরলে মিলবে ১০ কোটি টাকা পুরস্কার, সুরক্ষিত থাকবেন তথ্যদাতা

আপডেট সময় : ১২:১৩:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে তথ্য প্রকাশকারীদের (হুইসেল ব্লোয়ার) আইনগত সুরক্ষাও নিশ্চিত করবে নতুন এই বিধিমালা। দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি ‘পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ ও তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা বিধিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়ন করেছে, যা এখন জনমত যাচাইয়ের অপেক্ষায়।

বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো তথ্য প্রকাশকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যদি পুঁজিবাজারে কোনো অর্থদণ্ড বা জরিমানা আদায় হয়, তবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সেই তথ্য প্রকাশকারীকে আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননা দিতে পারবে। তবে, এই প্রণোদনার পরিমাণ আদায়কৃত অর্থদণ্ড বা জরিমানার ২৫ শতাংশের বেশি হবে না এবং কোনো অবস্থাতেই তা ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে না। আর্থিক প্রণোদনা বা সম্মাননা প্রদানের শর্তাদি, পরিমাণ ও পদ্ধতি সময় সময় আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

বিএসইসির কমিশন সভায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিধিমালাটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি শিগগিরই জনমত যাচাইয়ের জন্য বিএসইসির ওয়েবসাইটে এবং জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। প্রকাশের দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে এই বিধিমালা সম্পর্কে তাদের মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি জানাতে পারবে। জনমতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে বিধিমালাটি কার্যকর হবে।

বিএসইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করাই এই বিধিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য। তথ্য প্রকাশকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের নির্ভয়ে তথ্য প্রদানে উৎসাহিত করা হবে, যাতে কোনো ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন। এর ফলে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিধিমালায় তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষার বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। তথ্য প্রকাশকারীর সম্মতি ছাড়া এবং আইনি প্রয়োজন ব্যতীত তার পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। যদি কোনো চাকরিজীবী এই বিধিমালার আওতায় তথ্য প্রকাশ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে পদাবনতি, হয়রানিমূলক বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি, তিরস্কার বা কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এমনকি তথ্য প্রকাশকারীকে কোনো মামলায় সাক্ষী করা যাবে না এবং মামলার কার্যক্রমে এমন কিছু প্রকাশ করা যাবে না, যা তার পরিচয় ফাঁস করে দেয়। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্রেও তার পরিচয় গোপন রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর সেকশন ১৯-এর বিধান অনুসরণ করা হবে।

এই বিধিমালার অধীনে ‘তথ্য প্রকাশকারী’ বলতে বিএসইসির নিবন্ধিত কোনো বাজার মধ্যস্থতাকারী, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, ইস্যুয়ার, নিবন্ধিত ফান্ড বা স্পেশাল পারপাস ভেহিকেলের (এসপিভি) কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, নিরীক্ষক বা এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট ছক (ফরম-১) পূরণ করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকতে হবে যে, প্রকাশিত তথ্যটি সত্য অথবা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই বিশ্বাস করেন যে, প্রকাশিত তথ্যটি সত্য হতে পারে এবং তথ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে সত্যতা যাচাই করা সমীচীন।