ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর: ‘স্বার্থের সংঘাতের’ আশঙ্কায় টিআইবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের ব্যবসায়িক পটভূমি ও ঋণ সংক্রান্ত অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্ন তুলেছে, একজন প্রতিষ্ঠিত তৈরি পোশাক শিল্প ও আবাসন ব্যবসায়ী যিনি অতীতে নিজ প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতফসিল করিয়েছেন, তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে কর্পোরেট স্বার্থের প্রভাবমুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ব্যাংকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন?

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রহীতা থেকে ঋণখেলাপি এবং পরবর্তীতে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলকরণের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। এছাড়া, তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন খাত, অ্যাটাব এবং ঢাকা চেম্বারের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী লবির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন ভঙ্গুর ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তখন তড়িঘড়ি করে নিয়োগপ্রাপ্ত এই গভর্নর ব্যবসায়ী লবি, ঋণগ্রস্ত এবং ঋণখেলাপি মহলের প্রভাবমুক্ত হয়ে কতটা স্বাধীন ও নির্মোহভাবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, যেখানে দেশের সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা, এবং প্রায় ৫০ শতাংশ সংসদ সদস্য ঋণগ্রস্ত, সেখানে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলকরণের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। এই নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কী বার্তা যাচ্ছে, সে বিষয়েও তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে খেলাপি ঋণ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতানির্ভর ব্যবসায়ী লবির হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বভার দেওয়া কতটা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। একইসঙ্গে, ব্যাংক খাতের সুশাসন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারে যে অঙ্গীকার ছিল, স্বার্থের সংঘাতের এমন সুস্পষ্ট ঝুঁকিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া সেই অঙ্গীকারের লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা, অর্থপাচার ও খেলাপি ঋণের ভয়াবহতা এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের নাজুক পরিস্থিতি বর্তমান সরকারের অজানা নয়। এমন এক সময়ে যখন বিদেশি বিনিয়োগসহ সার্বিকভাবে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি, তখন এই নিয়োগ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে নতুন গভর্নর আদৌ স্বাধীন ও নির্মোহভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: এনজিও ঋণের জট নিয়ে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর: ‘স্বার্থের সংঘাতের’ আশঙ্কায় টিআইবি

আপডেট সময় : ০৮:২০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের নবনিযুক্ত গভর্নরের ব্যবসায়িক পটভূমি ও ঋণ সংক্রান্ত অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্ন তুলেছে, একজন প্রতিষ্ঠিত তৈরি পোশাক শিল্প ও আবাসন ব্যবসায়ী যিনি অতীতে নিজ প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিশেষ বিবেচনায় পুনঃতফসিল করিয়েছেন, তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে কর্পোরেট স্বার্থের প্রভাবমুক্ত হয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ব্যাংকখাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন?

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রহীতা থেকে ঋণখেলাপি এবং পরবর্তীতে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলকরণের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে। এছাড়া, তৈরি পোশাক শিল্প, আবাসন খাত, অ্যাটাব এবং ঢাকা চেম্বারের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী লবির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন ভঙ্গুর ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তখন তড়িঘড়ি করে নিয়োগপ্রাপ্ত এই গভর্নর ব্যবসায়ী লবি, ঋণগ্রস্ত এবং ঋণখেলাপি মহলের প্রভাবমুক্ত হয়ে কতটা স্বাধীন ও নির্মোহভাবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন? ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, যেখানে দেশের সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশের মূল পেশা ব্যবসা, এবং প্রায় ৫০ শতাংশ সংসদ সদস্য ঋণগ্রস্ত, সেখানে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিলকরণের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। এই নিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কী বার্তা যাচ্ছে, সে বিষয়েও তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে খেলাপি ঋণ ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতানির্ভর ব্যবসায়ী লবির হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন সদস্যকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বভার দেওয়া কতটা বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত, তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে। একইসঙ্গে, ব্যাংক খাতের সুশাসন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারে যে অঙ্গীকার ছিল, স্বার্থের সংঘাতের এমন সুস্পষ্ট ঝুঁকিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া সেই অঙ্গীকারের লঙ্ঘন।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর দশা, অর্থপাচার ও খেলাপি ঋণের ভয়াবহতা এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের নাজুক পরিস্থিতি বর্তমান সরকারের অজানা নয়। এমন এক সময়ে যখন বিদেশি বিনিয়োগসহ সার্বিকভাবে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি, তখন এই নিয়োগ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে নতুন গভর্নর আদৌ স্বাধীন ও নির্মোহভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।