জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার খন্দকার এহসান হাবীবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন প্রধান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছাত্রদলকর্মী হৃদয় ও আলামিনসহ আরও বেশ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী খন্দকার এহসান হাবীব জানান, বুধবার দুপুরে ছাত্রদল সভাপতি ইমরান হোসেন প্রধানের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে যান। ওই সময় তিনি উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) কক্ষে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে মেডিকেল সেন্টারের সামনে পৌঁছালে ইমরান ও আলামিনের নেতৃত্বে একদল যুবক তার পথরোধ করেন। তিনি কেন উপাচার্যের দপ্তরে গিয়েছিলেন—এমন প্রশ্ন তুলে তাকে ভবিষ্যতে সেখানে যেতে নিষেধ করা হয়।
ঘটনার একপর্যায়ে এহসান হাবীব বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ড. মাহবুবুর রহমান লিটনকে জানানোর কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ইমরান ও হৃদয়। অভিযোগ উঠেছে, তারা ওই কর্মকর্তার ওপর শারীরিক আক্রমণ করেন। এসময় অপর উপ-রেজিস্ট্রার আমিনুল ইসলাম তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তিনিও লাঞ্ছিত হন।
খন্দকার এহসান হাবীব বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি ইতিপূর্বে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা প্যানেল থেকে দুইবার সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করার জেরে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় একাধিক মামলার শিকার হন তিনি। ওই সময় তাকে চাকরিচ্যুতও করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা উপাচার্যের কক্ষে ঢুকে তাকে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন বলে একটি অভিযোগ রয়েছে।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন প্রধানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 




















